
হরমুজ প্রণালির আশপাশের অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক হামলার দায়ভার ইরানের ওপর চাপিয়ে তেহরানের ৮০টিরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ব্যাপক বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) ভাষ্য অনুযায়ী, এই অভিযানে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের ৬০টিরও বেশি ছোট নৌযান লক্ষ্য করে নিখুঁত অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।
এই হামলার পরপরই তেহরান একে ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ আখ্যা দিয়ে পাল্টা ‘চূর্ণবিচূর্ণ জবাব’ দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনায় কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপ তারা মেনে নেবে না। হামলার খবর পাওয়ার পরপরই প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান তার ইরাক সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, বন্দর আব্বাস ও সিরিক বন্দরে বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে এবং কিছু জেটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া জ্বালানি রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্গ দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।
এই উত্তেজনার সূত্রপাত হয় হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাংকারে অজ্ঞাত হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। যদিও কোনো পক্ষ সরাসরি দায় স্বীকার করেনি, তবে যুক্তরাষ্ট্র এর জন্য ইরানকে দায়ী করে আসছে। এই সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ওয়াশিংটন ইরানের তেল বিক্রির বিশেষ লাইসেন্স বাতিল করেছে, যা দুই দেশের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ-এর ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘ভয়ভীতি ও জবরদস্তি’ হিসেবে উল্লেখ করে কোনো চাপের কাছে মাথা নত না করার অঙ্গীকার করেছেন।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুর্কি ন্যাটো সম্মেলনে অবস্থানকালেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার পরিকল্পনায় চূড়ান্ত অনুমোদন দেন। ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আবারও অস্থিতিশীল করে তুলল। ইরানের পক্ষ থেকে বাহরাইনের দিকে ড্রোন পাঠানোর অভিযোগ এবং কুয়েতের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থায় বিঘ্নের খবর পরিস্থিতির জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে ইতোমধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যা পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।