
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে স্কেল বা বেতন কাঠামো চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ের দিকে এগিয়ে চলছে। নতুন এই বেতন কাঠামোতে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের বৈষম্য কমিয়ে আনতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুপারিশ পর্যালোচনাকারী সচিব কমিটি বিদ্যমান ১:৯.৪ অনুপাতের পরিবর্তে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের অনুপাত ১:৭.৫ করার প্রস্তাব করেছে। এই নতুন বেতন কাঠামো প্রণয়নে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর লিভিং স্ট্যান্ডার্ড সার্ভে ২০২৫-এর তথ্যকে ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে, যেখানে বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের বাস্তব চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে।
নতুন পে স্কেলের খসড়া অনুযায়ী কেবল মূল বেতনই নয়, বরং বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন ভাতার কাঠামোতেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী সব গ্রেডে সমান হারে ইনক্রিমেন্ট দেওয়া হলেও নতুন কাঠামোয় গ্রেড অনুযায়ী ইনক্রিমেন্টের হার ভিন্ন হতে পারে। বেতন কমিশন প্রথম গ্রেডের জন্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন গ্রেডের জন্য ২০ হাজার টাকা মূল বেতনের সুপারিশ করলেও সচিব কমিটি প্রথম গ্রেডের বেতন ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করছে। এছাড়া সরকারি কর্মচারীদের বিশেষ সুবিধা হিসেবে যাতায়াত, টিফিন, ধোলাই ও ঝুঁকিভাতা বৃদ্ধির পরিকল্পনাও রয়েছে।
তবে সব সুবিধা একসঙ্গে কার্যকর না করে ধাপে ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে সরকার। চিকিৎসা ভাতা ও সন্তানদের মাসিক শিক্ষা ভাতার ক্ষেত্রে কমিশনের প্রস্তাবের চেয়ে কিছুটা কম অংক নির্ধারণের বিষয়টিও পর্যালোচনার অধীনে রয়েছে। অর্থ বিভাগ জানিয়েছে যে, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক বিষয় হওয়ায় প্রতিটি সিদ্ধান্তের আর্থিক প্রভাব ও প্রশাসনিক বাস্তবতা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই করা হচ্ছে। চলতি মাসের শেষ নাগাদ সচিব কমিটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেবে। প্রধানমন্ত্রীর চূড়ান্ত অনুমোদন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং শেষ হওয়ার পরই নতুন পে স্কেলের গেজেট আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হবে। সরকারি কর্মচারীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হচ্ছে।