
দীর্ঘ আড়াই বছর পর রাফাহ সীমান্ত দিয়ে নিজ মাতৃভূমি গাজায় ফিরেছেন ফিলিস্তিনিদের একটি দল। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘ বিচ্ছেদের পর স্বজনদের সাথে এই পুনর্মিলন ছিল এক আবেগঘন মুহূর্ত। সীমান্তে বাসে করে পৌঁছানোর পর ফুল, সংগীত এবং অশ্রুসিক্ত আলিঙ্গনের মাধ্যমে তাদের স্বাগত জানান স্থানীয়রা। দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকার পর এই ফিরে আসা তাদের জীবনে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
ফিলিস্তিনিদের এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে মিশর সরকার প্রয়োজনীয় আইনি ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করছে। মিশরীয় রেড ক্রিসেন্টের স্বেচ্ছাসেবকরা সরকারি কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে ফিরে আসা মানুষের মধ্যে ‘রিটার্ন কিট’ বিতরণ করছেন। বিশেষ করে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় রেড ক্রিসেন্টের সদস্যরা নিবিড়ভাবে কাজ করছেন। এছাড়া গাজার তীব্র শীতে তাদের প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার সামগ্রীও সরবরাহ করা হয়েছে।
একই সময়ে গাজা থেকে চিকিৎসার জন্য নতুন করে আহত ও অসুস্থ ফিলিস্তিনিদের একটি দলকে গ্রহণের প্রস্তুতিও নিচ্ছে মিশর। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সীমান্ত এলাকায় একটি মেডিকেল ট্রায়াজ পয়েন্ট স্থাপন করেছে। সেখানে রোগীদের প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর জরুরি ভিত্তিতে অ্যাম্বুলেন্সে করে মিশরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হবে। দীর্ঘ সময় যুদ্ধের বিভীষিকা আর বিচ্ছেদ সয়ে ফেরা এক বৃদ্ধা নারী জানান, পৃথিবীর যেখানেই মানুষ আশ্রয় নিক না কেন, শেষ পর্যন্ত গাজাই তাদের আপন ঠিকানা।
এই মানবিক করিডোরটি খোলার ফলে একদিকে যেমন বিচ্ছিন্ন পরিবারগুলো পুনরায় মিলিত হচ্ছে, অন্যদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার সাধারণ মানুষের জন্য চিকিৎসা সেবা গ্রহণের পথও আরও সুগম হচ্ছে। রাফাহ সীমান্তে রেড ক্রিসেন্টের এমন নিরবচ্ছিন্ন তৎপরতা ফিলিস্তিনিদের এই দুঃসময়ে কিছুটা হলেও স্বস্তি বয়ে আনছে।