
টানা তিন দিনের প্রবল বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলা এখন বন্যার কবলে। মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে চকরিয়া পৌরসভা এবং মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে। চকরিয়া পৌরসভার হাসপাতালপাড়া, নিউমার্কেট, থানা সেন্টার ও মহাসড়কের বিস্তীর্ণ অংশ এখন পানির নিচে। মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর, কোণাখালী, বদরখালীসহ বেশ কিছু এলাকায় স্লুইসগেট দিয়ে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় প্লাবন পরিস্থিতি আরও দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অধিকাংশ স্লুইসগেট সময়মতো খোলা না হওয়ার কারণে নিম্নাঞ্চলে পানি দ্রুত বাড়ছে।
প্রাকৃতিক এই দুর্যোগের ভয়াবহতায় সোমবার রাতে পেকুয়া উপজেলার টইটং ইউনিয়নে পাহাড় ধসে মিনহাজ নামের সাত বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার পর পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে জরুরি কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পক্ষ থেকেও পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বর্ষণের ফলে নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধির সতর্কতা জারি করা হয়েছে। চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ইউএনও মো. শাহীদ দেলোয়ার জানিয়েছেন, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় সব সরকারি সংস্থাকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের স্লুইসগেটগুলো খুলে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বন্যার পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। এমতাবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের অবিলম্বে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছে। চকরিয়া ও পেকুয়াবাসী এখন এই চরম দুর্যোগপূর্ণ সময়ে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি নিজেদের জানমালের নিরাপত্তায় সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।