
বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব এশিয়ার বাজারে তাদের অপরিশোধিত তেলের দামে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় ছাড় দিয়েছে। আগস্ট মাসের জন্য সৌদি আরামকো তাদের প্রধান ‘আরব লাইট’ ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১১ ডলার কমিয়েছে। একইসাথে অন্যান্য চারটি গ্রেডের তেলের দামও ব্যারেল প্রতি ১১ ডলার করে কমানো হয়েছে। অথচ এত বড় ছাড় দেওয়ার পরও এশিয়ার ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সৌদির তেল কেনার ব্যাপারে তেমন একটা আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।
এর পেছনে মূল কারণ হলো মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় সৌদির তেল এখনও অনেক বেশি ব্যয়বহুল। পারস্য উপসাগরের ভেতর থেকে তেল পরিবহনের জাহাজ ভাড়া বর্তমানে অনেক বেশি এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির কারণে জাহাজ চার্টার করার খরচও প্রচুর। ভারতের একটি শোধনাগার জানিয়েছে যে, তারা অন্যান্য কোম্পানি থেকে অনেক কম দামে তেল পাওয়ায় সৌদির তেল বেশি দামে কেনার কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছে না।
বিশ্ববাজারে তেলের দামে পতনের পেছনে বড় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হওয়া। এর ফলে তেলের সরবরাহ বাড়ায় বাজারে বিক্রেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। ইরান তার তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করায় এশিয়ার বাজারে প্রতিযোগিতার মাত্রা আরও বেড়েছে। বাজার বিশ্লেষক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান ভরটেক্সার মতে, বিশেষ করে চীনে তেলের চাহিদা দুর্বল থাকায় বাজার এখন সম্পূর্ণভাবে ক্রেতাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
বর্তমানে সৌদি আরব কোনো ‘মূল্য যুদ্ধে’ জড়াতে চাচ্ছে না এবং কৃত্রিমভাবে তেলের দাম ধরে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিশ্লেষকদের শঙ্কা হলো, বাজার পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দাম আরও না কমালে সৌদি আরামকো এশিয়ার বাজারে তাদের দীর্ঘদিনের মার্কেট শেয়ার হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।