
ফুটবল বিশ্বে এমন কিছু প্রতিভা আছে যারা খুব নিঃশব্দে মাঠে আসেন, কিন্তু মাঠ ছাড়ার সময় নিজের পায়ের জাদুতে পুরো স্টেডিয়ামকে আলোকিত করে যান। বেলজিয়ামের তরুণ ফুটবল তারকা চার্লস ডি কেটেলার ঠিক তেমনই এক নাম। ২০০১ সালে বেলজিয়ামের ব্রুজে জন্মগ্রহণ করা এই খেলোয়াড় শৈশব থেকেই ফুটবলের সাথে সখ্য গড়ে তোলেন। ক্লাব ব্রুজের একাডেমি থেকে উঠে আসা ডি কেটেলার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইউরোপীয় ফুটবলের বড় বড় ক্লাবের নজরে চলে আসেন। ইতালির এসি মিলানে কিছুটা কঠিন সময় পার করলেও, আতালান্তায় নিজের খোলস ছেড়ে বেরিয়ে এসে তিনি আবারও প্রমাণ করেছেন কেন তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনাময় খেলোয়াড় বলা হয়।
চলতি ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬-এ চার্লস ডি কেটেলার বেলজিয়াম দলের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছেন। গ্রুপ পর্ব থেকে শুরু করে নকআউট পর্যায়ে তার সৃজনশীল ফুটবল প্রতিপক্ষকে বারবার চাপে ফেলেছে। বিশেষ করে শেষ ষোলোয় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৪-১ গোলের দুর্দান্ত জয়ে তিনি ছিলেন মূল কারিগর। সেই ম্যাচে জোড়া গোল এবং একটি অ্যাসিস্ট করে তিনি শুধু ম্যাচসেরার পুরস্কারই পাননি, বরং পুরো টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা পারফর্মার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কেভিন ডি ব্রুইন ও রোমেলু লুকাকুদের মতো অভিজ্ঞ তারকার পাশাপাশি খেলে তিনি নিজের খেলার মানকে প্রতিনিয়ত উন্নত করে চলেছেন।
মাঠের বাইরে চার্লস ডি কেটেলার অত্যন্ত প্রচারবিমুখ এবং বিনয়ী একজন মানুষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাকচিক্যের চেয়ে কঠোর অনুশীলন এবং মাঠের পরিশ্রমকে তিনি বেশি প্রাধান্য দেন। তার কোচ এবং সতীর্থ কেভিন ডি ব্রুইনও তার ম্যাচ রিডিং ক্ষমতা এবং শেখার মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। ডি কেটেলার নিজে অবশ্য ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলের জয়কেই সবসময় এগিয়ে রাখেন। অভিজ্ঞ এবং তরুণদের সমন্বয়ে গঠিত বেলজিয়াম দল তার হাত ধরে ফুটবল বিশ্বকাপের নতুন উচ্চতায় পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছে। মাঠে তার প্রতিটি টাচ ও বুদ্ধিদীপ্ত মুভমেন্ট জানান দিচ্ছে যে, তিনি শুধু বেলজিয়ামের বর্তমান ভরসার নাম নন, বরং আগামী দিনে ইউরোপীয় ফুটবলের উজ্জ্বল নক্ষত্র হতে চলেছেন।