
২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের স্বপ্নভঙ্গ হলো যুক্তরাষ্ট্রের। সেয়াটলে অনুষ্ঠিত শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বেলজিয়ামের কাছে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল শেষ স্বাগতিক দেশ। এর আগে মেক্সিকো এবং কানাডা টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে পড়ায় যুক্তরাষ্ট্রই ছিল স্বাগতিকদের শেষ ভরসা। কিন্তু মউরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা বেলজিয়ামের তরুণ তুর্কি চার্লস ডি কেটেলারের গতির কাছে অসহায় আত্মসমর্পণ করেছে। এই জয়ে বেলজিয়াম এখন শুক্রবার লস অ্যাঞ্জেলেসে স্পেনকে হারানোর লক্ষ্যে কোয়ার্টার ফাইনালের প্রস্তুতি শুরু করবে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বেলজিয়ামের আক্রমণভাগের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগ কোণঠাসা হয়ে পড়ে। নবম মিনিটে নিকোলাস রাস্কিনের নিখুঁত পাসে চার্লস ডি কেটেলার বেলজিয়ামকে এগিয়ে দেন। ৩১ মিনিটে মালিক টিলম্যানের ফ্রি-কিক বেলজিয়ামের হ্যান্স ভানাকেনের গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ালে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িক সমতায় ফেরে। তবে সেই আনন্দ স্থায়ী হয়নি দুই মিনিটের বেশি। ৩৩ মিনিটে লিয়ান্দ্রো ট্রোসার্ডের ক্রসে দারুণ হেডে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে দলকে আবারও এগিয়ে দেন ডি কেটেলার।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণভাগের ভুলে আরও দুটি গোল হজম করতে হয়। ডি কেটেলারের চাপের মুখে মার্কিন গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিস ভুল করলে হ্যান্স ভানাকেন বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন। ম্যাচের একদম শেষ দিকে ইনজুরি সময়ে বদলি খেলোয়াড় রোমেলু লুকাকু গোল করে বেলজিয়ামের ৪-১ ব্যবধানের বিশাল জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলটির মাধ্যমে লুকাকু বিশ্বকাপে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে একটি টুর্নামেন্টে তিনটি গোল করার নতুন রেকর্ড গড়েন।
ম্যাচের আগের উত্তাপ কিছুটা তৈরি হয়েছিল ফোলারিন বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে। গত রাউন্ডে লাল কার্ড পাওয়া বালোগুনের ওপর থেকে ফিফা আকস্মিকভাবে এক বছরের জন্য নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফিফাকে এই নিষেধাজ্ঞা পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে মাঠে প্রত্যাবর্তনের ম্যাচে নিজেকে তেমনভাবে মেলে ধরতে পারেননি বালোগুন। বেলজিয়ামের গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া তার একমাত্র ভালো সুযোগটি রুখে দেন। সব মিলিয়ে, রক্ষণভাগের দুর্বলতা এবং বেলজিয়ামের তরুণ প্রজন্মের অসামান্য নৈপুণ্যে ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল যুক্তরাষ্ট্রের।