
যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্রমাগত হুমকি অব্যাহত থাকলে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসবে না ইরান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া এক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় এই অবস্থান স্পষ্ট করেছে তেহরান। ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে হুমকি দিয়ে বলেছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হয় ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাবে, নতুবা ‘অসমাপ্ত কাজ শেষ করবে’। ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানান, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ইরানের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা অচল করে দিতে পারে এবং তাদের সেতুগুলো ধ্বংস করে দিতে সক্ষম।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এই ধরনের হুমকিনির্ভর ভাষাকে সমঝোতার পথে প্রধান বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ১৩ নম্বর ধারার কথা মনে করিয়ে দিয়ে ওয়াশিংটনকে তাদের স্বাক্ষরের মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। আরাগচি জোর দিয়ে বলেন, আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শোকানুষ্ঠানে লাখো মানুষের উপস্থিতি এবং ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর অটল অবস্থান প্রমাণ করে যে কোনো ধরনের হুমকি দিয়ে ইরানকে ভীত করা সম্ভব নয়। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সম্মানের সাথে পারস্পরিক আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত চূড়ান্ত চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা শুরু হবে না।
দীর্ঘদিন ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধের অবসান ঘটাতে একটি সমঝোতা চুক্তির সম্ভাবনা তৈরি হলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনায় তা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে শান্তি চুক্তিটি আলোচনার ইতিহাসের সবচেয়ে কাছাকাছি পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে ক্রমাগত সামরিক শক্তি প্রদর্শনের হুমকি ও কঠোর বার্তা আদান-প্রদান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তির মূল ভিত্তি হিসেবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতির যে প্রয়োজনীয়তা ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তা পূরণ না হলে এই শান্তি প্রক্রিয়া সফল হওয়া কঠিন। বর্তমান এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।