
প্রকৃতির বৈরী আচরণে বিপর্যস্ত চীন। দেশটিতে আঘাত হানা সাম্প্রতিক এক শক্তিশালী ঝড়ে অন্তত ৮ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে ঘরবাড়ি ও ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়েছে বহু জায়গায়। এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সুপার টাইফুন ‘বাভি’। আবহাওয়াবিদদের মতে, অত্যন্ত শক্তিশালী এই টাইফুনটি বর্তমানে তীব্র গতি নিয়ে চীনের উপকূলীয় অঞ্চলের দিকে ধেয়ে আসছে।
চীনের আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সুপার টাইফুন ‘বাভি’র বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এটি সমুদ্রের ওপর প্রবল শক্তি সঞ্চয় করে স্থলভাগের দিকে এগিয়ে আসছে, যা উপকূলীয় এলাকায় বড় ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। টাইফুনের প্রভাবে দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশগুলোতে ভারী বৃষ্টিপাত এবং জলোচ্ছ্বাসের সতর্কবার্তা জারি করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। উপকূলীয় জেলাগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদে সরে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ত্রাণ ও উদ্ধার তৎপরতা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঝড়ের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে উদ্ধারকারী দলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত কাজ শুরু করেছে। বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় দুর্গত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছানো ও যোগাযোগ স্থাপনে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, সুপার টাইফুন ‘বাভি’ যদি বর্তমান গতিপথ বজায় রাখে, তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তা উপকূলীয় চীনের বিভিন্ন শহরে আঘাত হানতে পারে।
প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ের মুখে পড়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের আতঙ্কিত না হয়ে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্র উপকূলে থাকা জেলেদের মাছ ধরতে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চীন সরকার টাইফুনের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে উপকূলীয় বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণ এবং জরুরি সেবা কেন্দ্রগুলো ২৪ ঘণ্টা সচল রাখার ঘোষণা দিয়েছে। সুপার টাইফুনের এই মহাবিপদ থেকে বাঁচতে এখন পুরো চীন প্রহর গুনছে এবং প্রস্তুতি নিচ্ছে সম্ভাব্য বড় ক্ষয়ক্ষতির মোকাবিলা করার।