
আলেকজান্দ্রিয়ার বাসিন্দাদের জন্য স্বস্তির খবর হলো দীর্ঘ ছয় দিনের তীব্র তাপপ্রবাহের সমাপ্তি ঘটেছে। গত বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই ভয়াবহ গরমের দাপট শেষ হয়েছে রবিবার রাতে, যার ফলে সোমবার আর কোনো নতুন তাপ সতর্কতা জারি করেনি ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস। বিগত কয়েক দিনে তাপমাত্রা এবং হিট ইনডেক্স ১১৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছেছিল, যা জনজীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে এনেছিল। যদিও সোমবার তাপমাত্রা কিছুটা কমে ৯০ ডিগ্রিতে নেমে এসেছে, তবুও আবহাওয়া শান্ত হওয়ার সুযোগ নেই। কারণ এখন নতুন করে আলেকজান্দ্রিয়া এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার বা ফ্লাশ ফ্লাডের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস সোমবার বিকাল ৪টা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত একটি বন্যা সতর্কতা বা ফ্লাশ ফ্লাড ওয়াচ জারি করেছে। আবহাওয়াবিদদের মতে, এই সময়ের মধ্যে ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এবং শক্তিশালী ঝড়ো হাওয়ার সাথে ঘণ্টায় দুই থেকে তিন ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হতে পারে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নিচু এলাকাগুলো এই বৃষ্টির কারণে সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ক্যামেরন রান, হুফস রান এবং ফোর মাইল রানের মতো জলপথগুলো দ্রুত পানি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখায়। আলেকজান্দ্রিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিস বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে এবং প্রয়োজনে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
গত কয়েক দিনের তীব্র গরমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছিল, বিশেষ করে শুক্রবারের তাপমাত্রা ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইট স্পর্শ করায় এবং হিট ইনডেক্স ১১৫ ডিগ্রিতে পৌঁছানোয় অবস্থা ছিল ভয়াবহ। শনিবারের ঝড়ের পর কিছুটা স্বস্তি মিললেও রবিবার পর্যন্ত তাপমাত্রার প্রভাব বিদ্যমান ছিল। এখন তাপপ্রবাহের পরিবর্তে বৃষ্টির এই নতুন আবহাওয়াজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে শহর কর্তৃপক্ষকে। আলেকজান্দ্রিয়ার কুলিং সেন্টার এবং আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার কথা জানানো হয়েছে, তবে জরুরি প্রয়োজনে বাসিন্দাদের আবহাওয়া রাডার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বন্যা ঝুঁকি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, বন্যার পানির গভীরতা অজানা থাকলে কোনোভাবেই গাড়ি নিয়ে বা পায়ে হেঁটে রাস্তা পার হওয়ার চেষ্টা করা উচিত নয়। যেকোনো ধরনের জরুরি পরিস্থিতিতে আলেকজান্দ্রিয়ার বাসিন্দাদের ‘টার্ন এরাউন্ড, ডোন্ট ড্রাউন’ নীতি অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। এছাড়া বাড়ির বেজমেন্ট ড্রেন বা সাম্প পাম্পগুলো সচল আছে কি না তা পরীক্ষা করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে ৯১১ নম্বরে যোগাযোগ করতে অথবা শহরের বর্তমান সতর্কবার্তা পেজে নিয়মিত আপডেট দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েকদিনেও থেমে থেমে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় পুরো সপ্তাহজুড়ে বাসিন্দাদের আবহাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।