
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ভারতের হার কেবল একটি পরাজয় নয়, বরং এটি দলের প্রস্তুতি এবং মনোযোগের অভাব নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে লেগ স্পিনার রবি বিষ্ণোইয়ের তিনটি ব্যাক-ফুট নো-বল ম্যাচে ভারতের পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দেয়। এই তিন নো-বল থেকে ইংল্যান্ড মোট ১৯ রান পায়, যা শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ভারতের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল। যদিও স্পিনারদের ক্ষেত্রে ব্যাক-ফুট নো-বল সচরাচর দেখা যায় না, তবে এবারের ম্যাচে বিষ্ণোইয়ের বোলিংয়ে যে তাড়াহুড়ো এবং যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা গেছে, তা হতাশাজনক।
বিশ্লেষকদের মতে, বিষ্ণোইয়ের এই ভুল কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং তার প্রস্তুতির অভাবের প্রতিফলন। আইপিএলে রাজস্থান রয়্যালসের হয়ে খুব কম ম্যাচ খেলার পর সরাসরি আন্তর্জাতিক ম্যাচে তার এমন পারফরম্যান্স নিয়ে টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক হয়েছেন। তিনি উইকেটের বাইরে থেকে যেভাবে রান-আপ শুরু করছিলেন এবং বল ডেলিভারি করার সময় যে লাফ দিচ্ছিলেন, তা কোনোভাবেই তাকে সঠিক লাইন ও লেংথে বল করতে সাহায্য করছিল না। নেটে এই সমস্যাগুলো সংশোধন করার পরিবর্তে ম্যাচের দিন তাকে আরও বেশি আত্মবিশ্বাসী দেখানোর বদলে দিশেহারা মনে হয়েছে, যা তার বোলিংয়ের মান কমিয়ে দিয়েছে।
দলের বর্তমান পরিস্থিতিও মোটেও স্বস্তিদায়ক নয়। বিশ্বজয়ের কয়েক মাস পার হতে না হতেই ভারতের মূল একাদশে বড় ধরনের রদবদল নিয়ে সমালোচনার ঝড় বইছে। সূর্যকুমার যাদব বা সঞ্জু স্যামসনের মতো অভিজ্ঞদের বাইরে রেখে নতুনদের সুযোগ দেওয়ার কৌশলটি দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে কি না, তা নিয়ে এখন জোর আলোচনা চলছে। নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ারের অধীনে ভারত গত তিনটি ম্যাচেই হেরেছে, যা প্রমাণ করে যে আইরিশ সিরিজের মতো ইংল্যান্ড সিরিজেও রণকৌশল এবং পরিকল্পনায় ঘাটতি রয়ে গেছে।
বিদেশের মাটিতে খেলা সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং, বিশেষ করে যখন প্রতিপক্ষ নিজ মাঠে পরিচিত কন্ডিশনে খেলে। এক্ষেত্রে ভারতের বর্তমান ম্যানেজমেন্টকে বুঝতে হবে যে, ভুল প্রস্তুতির খেসারত যেকোনো সময়ই বড় হারের রূপ নিতে পারে। রবি বিষ্ণোইয়ের মতো তরুণ বোলারদের টেকনিক্যাল ভুলগুলো যদি মাঠের বাইরে সংশোধন না করা হয়, তবে তা দলের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। শ্রেয়স আয়ারের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ হলো দলের মনোযোগ ফিরিয়ে আনা এবং ছোটখাটো ভুলগুলো কমিয়ে জয় ধারায় ফেরা। অন্যথায়, বর্তমান ফর্মের ধারা অব্যাহত থাকলে ভারতের জন্য আগামী সিরিজগুলো আরও কঠিন হয়ে উঠবে।