
হারারেতে আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে বল হাতে রীতিমতো আগুন ঝরালেন বাংলাদেশের তরুণ পেসার নাহিদ রানা। তার বিধ্বংসী বোলিং তোপে পড়ে মাত্র ১৪১ রানেই গুটিয়ে গেছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। মাত্র ২১ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট শিকার করে বাংলাদেশের ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ম্যাচে সেরা বোলিং ফিগারের নতুন রেকর্ড গড়েছেন এই গতিদানব। মেঘাচ্ছন্ন আকাশ আর পিচের আর্দ্রতাকে কাজে লাগিয়ে শুরু থেকেই জিম্বাবুইয়ান ব্যাটারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়েছেন টাইগার পেসাররা।
টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের সিদ্ধান্ত যে কতটা সঠিক ছিল, তা শুরুতেই প্রমাণ করেছেন তাসকিন আহমেদ। ইনিংসের শুরুতেই তিনি জিম্বাবুয়ের টপ অর্ডারে আঘাত হানেন। তবে আসল তাণ্ডবটা শুরু হয় নাহিদ রানা আক্রমণে আসার পর। নিজের করা মাত্র সাত ওভারের স্পেলে তিনি জিম্বাবুয়ের মিডল অর্ডারকে ধসিয়ে দেন। তার বাড়তি গতি এবং পিচ থেকে আদায় করা বাউন্স সামলাতে হিমশিম খেয়েছেন স্বাগতিক ব্যাটাররা। একে একে সাজঘরে ফেরান সিকান্দার রাজা, ওয়েসলি মাধেভেরে, ক্লাইভ মাদান্দে, ইনোসেন্ট কাইয়া এবং ব্র্যাড ইভান্সকে।
এক পর্যায়ে জিম্বাবুয়ের স্কোর ১০০ রানের নিচেই গুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু নবম উইকেটে নিউম্যান ন্যামহুরি এবং রিচার্ড এনগারাভার ৬৩ রানের জুটিতে লড়াই করার মতো পুঁজি পায় স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত নাহিদ রানার দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে এনগারাভা আউট হলে জিম্বাবুয়ের ইনিংসের ইতি ঘটে। নাহিদ রানা তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে ফাইভ-উইকেট হলের পাশাপাশি নতুন এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।
প্রথম ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে মাত্র ১৪১ রানে আটকে দেওয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশ এখন জয়ের পথে অনেকটাই এগিয়ে। হারারের এই স্পোর্টিং পিচে তাসকিন আহমেদের ২ উইকেট এবং নাহিদ রানার ঐতিহাসিক এই বোলিং পারফরম্যান্স টাইগার সমর্থকদের জন্য নিঃসন্দেহে এক দারুণ প্রাপ্তি। এখন দেখার বিষয়, রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ব্যাটাররা কতটা দাপটের সাথে সিরিজ জয়ের প্রথম ধাপ পার করতে পারেন।
বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে আপনার মতে সেরা বোলিং পারফরম্যান্স কোনটি? নাহিদ রানার আজকের এই রেকর্ড নিয়ে আপনার মন্তব্য জানান।