
ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নকআউট পর্বের উত্তেজনায় এখন ফুটছে পুরো বিশ্ব। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে আজ এক রোমাঞ্চকর ম্যাচে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তি বেলজিয়াম। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার সকাল ৬টায় যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের সিয়াটল স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি। মাঠের লড়াই কেবল কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করার নয়, এটি একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের তরুণ প্রজন্মের অদম্য গতি এবং অন্যদিকে বেলজিয়ামের দীর্ঘদিনের ফুটবলীয় অভিজ্ঞতার পরীক্ষা।
স্বাগতিক হওয়ার সুবাদে গ্যালারিতে থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থকদের প্রবল গর্জন, যা মার্কিন ফুটবলারদের জন্য বড় প্রেরণা। পুলিসিচ, ম্যাককেনি ও বালোগুনদের নিয়ে গড়া যুক্তরাষ্ট্র দল চলতি বিশ্বকাপে শুরু থেকেই দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছে। তাদের উচ্চগতির প্রেসিং ও দ্রুত পালটা আক্রমণের কৌশল বেলজিয়ামের রক্ষণভাগের জন্য বড় পরীক্ষা হতে পারে। মার্কিন কোচ দলের তরুণদের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে বলছেন, ঘরের মাঠের সুবিধাকে কাজে লাগিয়েই তারা নতুন ইতিহাস গড়তে চান।
অন্যদিকে, বেলজিয়াম তাদের গোল্ডেন জেনারেশনের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। কেভিন ডি ব্রুইনার সৃজনশীল পাসিং এবং রোমেলু লুকাকুর গোল করার দক্ষতা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সেনেগালের মতো শক্তিশালী দলকে হারিয়ে নকআউটে আসা বেলজিয়াম দলটির ভারসাম্য ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তাদের বড় শক্তি। বেলজিয়াম কোচের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের গতির বিপরীতে তাদের অভিজ্ঞতাই হতে পারে জয়ের চাবিকাঠি।
কৌশলগতভাবে ম্যাচটি অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বেলজিয়াম যদি মাঝমাঠের দখল ধরে রেখে ডি ব্রুইনার পাসিং কাজে লাগাতে পারে, তবেই তারা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিং ফুটবলের জাল ছিন্ন করতে পারবে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র যদি শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক খেলে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারে, তবে সিয়াটলের রাতটি তাদের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকতে পারে। ফুটবলপ্রেমীরা এখন প্রহর গুণছেন— শেষ বাঁশি বাজার পর কোয়ার্টার ফাইনালের আনন্দ উদযাপন করবে কোন দল? সিয়াটলের আলোঝলমলে মাঠে আজ এক নতুন ইতিহাসের অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।