
যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রাক্কালে মাউন্ট রাশমোরে দাঁড়িয়ে নিজের দীর্ঘদিনের এক আক্ষেপ পুনরায় সামনে আনলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার, সাংস্কৃতিক আধিপত্য এবং অলিম্পিক সাফল্যের কথা তুলে ধরার এক পর্যায়ে ট্রাম্প অনেকটা আক্ষেপের সুরেই বলেন, আমেরিকানরা বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে সবচেয়ে বেশি নোবেল পুরস্কার জিতলেও, তাকে এখন পর্যন্ত একটিও দেওয়া হয়নি।
ট্রাম্পের এই দাবির মূল ভিত্তি হলো তার দাবি করা ‘আটটি যুদ্ধ’ মিটমাট করা। তিনি মনে করেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক জটিলতা নিরসনে এবং শান্তি স্থাপনে তার ভূমিকা নোবেল কমিটির নজরে আসা উচিত ছিল। যদিও নোবেল প্রাপ্তি নিয়ে ট্রাম্পের এই আকাঙ্ক্ষা নতুন কিছু নয়। নিজের প্রথম মেয়াদের সময় থেকেই তিনি এই পুরস্কারের জন্য প্রকাশ্য তদবির চালিয়েছেন এবং নিজেকে এর জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে যোগ্য দাবিদার বলে গণ্য করে আসছেন।
উল্লেখ্য যে, নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে সাম্প্রতিককালে বেশ নাটকীয় ঘটনাও ঘটেছে। ২০২৫ সালে পুরস্কার বিজয়ী ভেনিজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদো ট্রাম্পকে নিজের মেডেলটি দিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তবে নোবেল কমিটি দ্রুতই সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে জানায়, পুরস্কার ও পদক হস্তান্তরযোগ্য নয় এবং ইতিহাসে প্রকৃত বিজয়ীর নামই লিপিবদ্ধ থাকবে।
ট্রাম্পের এই নোবেল-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে অবশ্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নানা সময় উপহাস করেছেন। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের ছেলে হান্টার বাইডেন সাম্প্রতিক এক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পোস্টে ট্রাম্পকে কটাক্ষ করে লিখেছেন যে, ট্রাম্প অন্তত ৩৮ বার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করেছেন বলে দাবি করেছেন! তার এই ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যের মূল সুর ছিল ঐতিহাসিকভাবে এমন দাবি কোনো প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রেই খাটে না।
হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ ব্যক্তিদের মতে, ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে এই নোবেল পুরস্কারকে তার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং ইতিহাসের পাতায় ‘চূড়ান্ত স্বীকৃতি’ হিসেবে বিবেচনা করেন। মার্কিন ইতিহাসে এখন পর্যন্ত মাত্র দুজন ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন এবং বারাক ওবামা নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছেন। সেই মর্যাদাপূর্ণ তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করার তীব্র ইচ্ছা ট্রাম্পের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বারবার ফুটে উঠেছে।
নোবেল পুরস্কারকে ঘিরে ট্রাম্পের এই উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? এটি কি কেবল তার ব্যক্তিগত স্বীকৃতি পাওয়ার জেদ, নাকি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে তার অবদানের সঠিক মূল্যায়ন হিসেবেই তিনি এটি চান বলে মনে করেন? আপনার মতামত আমাদের জানাতে পারেন।