
ইরানের রাজধানী তেহরানে প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় উপস্থিত ছিলেন দেশটির সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ। এই আয়োজনে অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিলেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) বর্তমান প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমদ ওয়াহিদি। ফারস নিউজ এজেন্সিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের ভিডিও ফুটেজে তাকে জানাজার প্রথম সারিতে শোকাহত জনতার মাঝে দেখা গেছে।
আহমদ ওয়াহিদি গত ১ মার্চ ২০২৬ সালে আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তার পূর্বসূরি মোহাম্মদ পাকপুর চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হন। এর আগে, ২০২৫ সালের জুনে ১২ দিনব্যাপী চলা যুদ্ধের সময় তৎকালীন আইআরজিসি প্রধান হোসেইন সালামিও ইসরায়েলি হামলায় প্রাণ হারান। এই কঠিন সময়ে বাহিনীর হাল ধরেছেন অভিজ্ঞ এই সামরিক কর্মকর্তা।
১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে আইআরজিসি প্রতিষ্ঠার শুরুর দিন থেকেই আহমদ ওয়াহিদি এই বাহিনীর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করে আসছেন। ১৯৮০-এর দশকের পর থেকে তিনি গোয়েন্দা সংস্থা ও সামরিক বাহিনীর নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮৮ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত তিনি অভিজাত শাখা ‘কুদস ফোর্স’-এর নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়া তিনি ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে এবং খামেনির পরবর্তী ইরানের নতুন নেতৃত্বের এই সংকটময় মুহূর্তে আহমদ ওয়াহিদির উপস্থিতি ও তার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্ব বহন করছে।
ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির নেতৃত্বে এবং বর্তমান সামরিক সংকটে আইআরজিসি প্রধান আহমদ ওয়াহিদির এই নেতৃত্ব দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা নীতিতে কতটা প্রভাব ফেলবে বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতামত আমাদের সাথে শেয়ার করতে পারেন।