
চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিতে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। সম্প্রতি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের পাঠানো অভিনন্দন বার্তার জবাবে এই আগ্রহ প্রকাশ করেন শি জিনপিং। রোববার (৫ জুলাই) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং কিম জং উনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, চীন ও উত্তর কোরিয়া উভয় দেশই সমাজতান্ত্রিক আদর্শে বিশ্বাসী এবং তাদের উভয় দলের মূলে রয়েছে মার্ক্সবাদী দর্শন। কিম জং উনকে পাঠানো বার্তায় তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেন, “আমি চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ককে একটি দীর্ঘমেয়াদি, সুদৃঢ় ও স্থিতিশীল উন্নয়নের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে প্রস্তুত। এর মাধ্যমে আমি উভয় দেশের সমাজতান্ত্রিক উদ্দেশ্যের পথকে আরও তরান্বিত করতে চাই।”
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পিয়ংইয়ংয়ে দুই দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফর সম্পন্ন করেছেন, যা গত সাত বছরের মধ্যে তার প্রথম সফর ছিল। এই সফর দুই দেশের মধ্যকার কূটনৈতিক ও কৌশলগত বোঝাপড়াকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
আগামী ১১ জুলাই চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক ‘বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সহায়তা চুক্তি’র ৬৫তম বার্ষিকী পালিত হতে যাচ্ছে। এমন একটি বিশেষ মুহূর্তে দুই শীর্ষ নেতার এই বার্তা আদান-প্রদান বিশ্ব রাজনীতিতে চীন-উত্তর কোরিয়া অক্ষকে আরও শক্তিশালী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সমাজতান্ত্রিক দেশ দুটির এই পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের বন্ধন ভবিষ্যতে কীভাবে ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখে, সেদিকেই নজর এখন বিশ্ব নেতাদের।
চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে এই দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আপনি মনে করেন? আপনার মতামত আমাদের জানাতে পারেন।