
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা চলাকালে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের ওপর হামলা চালানোর পূর্ণ সুযোগ যুক্তরাষ্ট্রের ছিল। সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাতে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, ওয়াশিংটন নিবিড়ভাবে জানাজার স্থানটি পর্যবেক্ষণ করছিল এবং চাইলেই সেখানে একটিমাত্র আঘাতের মাধ্যমে পুরো নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সম্ভব ছিল। তবে কূটনৈতিক আলোচনার পথ খোলা রাখার স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র এই সামরিক পদক্ষেপ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে বিরত থেকেছে।
ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, তিনি আলোচনার জন্য একটি কার্যকর পক্ষ চেয়েছিলেন। তাঁর মতে, যদি সেদিন জানাজায় থাকা কর্মকর্তাদের ওপর হামলা চালানো হতো, তবে আলোচনার টেবিলে বসার মতো আর কেউ অবশিষ্ট থাকত না। বর্তমানের বৈরী পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে বেশ আগ্রহী বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় দেশটি ভয়াবহভাবে পর্যুদস্ত হওয়ার পর এখন ইরান মীমাংসা করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
উভয় দেশই এক সপ্তাহের জন্য পারমাণবিক আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছিল বলে জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, জানাজা ও শোক পালনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার সুযোগ দিতেই এই সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছিল এবং সেই সময়ে উভয় পক্ষ একে অপরের ওপর কোনো ধরনের সামরিক হামলার পথ থেকে সরে এসেছিল।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প খামেনির জানাজায় মানুষের শোকের বহিঃপ্রকাশ নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন। শোকাবহ পরিবেশে মানুষকে কাঁদতে দেখে তিনি কিছুটা বিস্ময় প্রকাশ করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, অনেক ইরানিই আসলে প্রয়াত এই নেতাকে অপছন্দ করতেন, তাই এই শোক হয়তো জনগণের সত্যিকারের আবেগের চেয়ে ‘নকল কান্না’ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ট্রাম্পের এমন বিস্ফোরক মন্তব্য ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যকে আপনি কীভাবে দেখছেন? আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এভাবে হুমকি ও আলোচনার প্রস্তাবের সমন্বয়কে আপনি কীভাবে মূল্যায়ন করবেন? আপনার মতামত আমাদের জানান।