
দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অবহেলা ও বৈষম্যের শিকার বগুড়া জেলা অবশেষে উন্নয়নের মূলধারায় ফিরতে শুরু করেছে। শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি এই কথা জানিয়েছেন। দেশব্যাপী চলমান পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে বড়াইল-বাকসন খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এই বঞ্চনার অবসান ঘটার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
দীর্ঘদিন ধরে পলি জমে মৃতপ্রায় অবস্থায় থাকা বড়াইল-বাকসন খালটি পুনঃখননের মাধ্যমে নতুন জীবন পেয়েছে। এই পুনঃখনন পরবর্তী সবুজের সমারোহ গড়তে খালের দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে, যা পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে স্থানীয় হাজারো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে। শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান সরকার অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কেবল রাস্তাঘাট বা ভবন নির্মাণই যথেষ্ট নয়, বরং পরবর্তী প্রজন্মের জন্য একটি সবুজ ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। খাল পুনঃখননের পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে যাচ্ছে।
বগুড়ার সামগ্রিক উন্নয়ন এখন জাতীয় উন্নয়নের ধারার সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। শিবগঞ্জের এই উন্নয়ন কার্যক্রম কেবল স্থানীয় মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনই ঘটাবে না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় একটি মডেল হিসেবেও দাঁড়িয়ে থাকবে। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই কর্মসূচি বগুড়াবাসীর মাঝে উন্নয়নের নতুন আশার সঞ্চার করেছে। আগামী দিনেও সরকারের এই উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।