
দেশের বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর চিকিৎসাসেবার মান উন্নত করতে এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে। সাম্প্রতিক এক নির্দেশনায় দেশের সকল সিভিল সার্জনকে নিয়মিত মনিটরিং এবং বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এই নির্দেশনায় স্বাস্থ্য খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোতে শয্যা সংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসক, নার্স ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে ৫০ শয্যার একটি হাসপাতালে প্রতি শিফটে অন্তত পাঁচজন মেডিকেল অফিসারের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। অর্থাৎ, সহজ কথায় প্রতি ১০টি শয্যার বিপরীতে একজন মেডিকেল অফিসারকে সার্বক্ষণিক ডিউটিতে থাকতে হবে। এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলা কার্যালয়কে নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের ডিউটি রোস্টার সংগ্রহ এবং তা যাচাই-বাছাই করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনাটির সফল বাস্তবায়নে সিভিল সার্জনদের জন্য পাঁচটি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নির্ধারণ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে অন্যতম হলো বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকদের নাম, বিএমডিসি নিবন্ধন নম্বর ও মোবাইল নম্বরসহ তালিকা সংগ্রহ করা। সিভিল সার্জনরা নিয়মিত বিরতিতে হাসপাতালগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনে যাবেন এবং তথ্যের সাথে বাস্তবতার মিল রয়েছে কি না, তা যাচাই করবেন। যদি কোনো হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের উপস্থিতি না পাওয়া যায় অথবা ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য সরবরাহ করা হয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে মনিটরিং কার্যক্রমের সারসংক্ষেপ প্রতিবেদন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে জমা দিতে হবে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ কার্যকর হলে কাগজে-কলমে চিকিৎসক দেখিয়ে লাইসেন্স নবায়ন বা হাসপাতাল পরিচালনার মতো প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ হবে। এর ফলে রোগীরা যেমন মানসম্মত সেবা পাবেন, তেমনি বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা খাতে এক ধরনের জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনে করে, চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা গেলে বেসরকারি খাতে সেবার মান কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাবে।