
সরকারি নির্দেশনায় ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৩০০ টাকা কমিয়ে ১ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারণ করা হলেও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় তার কোনো প্রভাব দেখা যাচ্ছে না। বর্তমানে সরকারি এই নতুন দাম কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও, স্থানীয় বাজারগুলোতে এখনো ১ হাজার ৮০০ টাকা বা তার বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটি কিনতে গিয়ে সাধারণ ভোক্তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডিলার ও সরবরাহকারী পর্যায়ে সিন্ডিকেটের কারণে সরকারি মূল্যের সুফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। ক্রেতারা যখন দোকানগুলোতে সরকারি দামের কথা বলছেন, তখন বিক্রেতারা দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। খুচরা বিক্রেতাদের দাবি, ডিলাররা এখনো আগের বেশি দামেই সিলিন্ডার সরবরাহ করছেন, যার ফলে বাধ্য হয়ে তাদের বাড়তি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, ডিলাররা দাবি করছেন তারা সরকারি মূল্যই অনুসরণ করছেন। এই পাল্টাপাল্টি দোষারোপের মাঝে জিম্মি হয়ে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তারা।
মাধবপুর উপজেলার ইউএনও মেহেদী হাসান এ বিষয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রির কোনো আইনগত সুযোগ নেই। অভিযোগগুলো গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হবে এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে বাজার তদারকি জোরদার করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোক্তারা আশা করছেন, কেবল ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয় প্রশাসন যেন বাজারগুলোতে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করে। ডিলার পর্যায়ে স্বচ্ছতা বজায় রাখা গেলে এবং সিন্ডিকেট ভাঙা সম্ভব হলে তবেই সাধারণ মানুষ সরকারি মূল্যে রান্নার গ্যাস কেনার অধিকার ফিরে পাবে।