
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শহর কস্তিয়ানতিনিভকা দখলের ঘোষণা দিয়েছে রুশ সেনাবাহিনী। দীর্ঘ সময় ধরে দোনেৎস্ক অঞ্চলে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের অংশ হিসেবে শহরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল মস্কো। শুক্রবার রুশ সামরিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে এই অগ্রগতির খবর জানান। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় পুতিন এই শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়াকে একটি বড় কৌশলগত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
রুশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান জেনারেল ভ্যালেরি গেরাসিমভ জানিয়েছেন, তাদের দক্ষিণাঞ্চলীয় বাহিনী পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার লক্ষ্যে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। তিনি আরও বলেন, স্লোভিয়ানস্ক–ক্রামাতোরস্ক–কস্তিয়ানতিনিভকা প্রতিরক্ষা বলয়ের অন্যতম প্রধান এই দুর্গ এখন পুরোপুরি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। যুদ্ধের শুরু থেকেই পুরো ডনবাস অঞ্চল নিজেদের আয়ত্তে আনা রাশিয়ার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
কস্তিয়ানতিনিভকা কেবল একটি সামরিক পয়েন্ট নয়, বরং ডনবাস অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন ও শিল্পকেন্দ্র। শহরটি ইউক্রেনের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় একটি শক্ত দুর্গ হিসেবে পরিচিত ছিল। পুতিন মনে করছেন, ইউক্রেনের দীর্ঘপাল্লার হামলা, বিশেষ করে রাশিয়ার তেলশিল্পকে লক্ষ্য করে চালানো সাম্প্রতিক হামলাগুলো প্রতিরোধের জন্য এই নিয়ন্ত্রণ জরুরি ছিল। এর মাধ্যমে রাশিয়া তাদের নিরাপত্তা বলয় আরও সম্প্রসারণ করতে পারবে বলে দাবি করেছেন তিনি।
যদিও রাশিয়া কস্তিয়ানতিনিভকা দখলের জোরালো দাবি করেছে, তবে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। যুদ্ধের শুরু থেকেই কস্তিয়ানতিনিভকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র সংঘাত চলে আসছিল। বর্তমানে রাশিয়া শহরটিকে দখলে নেওয়ার দাবি করলেও, বাস্তবে পরিস্থিতি কতটা পরিবর্তন হয়েছে তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলমান এই সংঘাত এখন কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।