
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের বাজার নিয়ে নতুন করে শঙ্কা প্রকাশ করেছে শীর্ষ মার্কিন ব্যাংক জেপি মর্গান। গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন খাত থেকে স্বর্ণের চাহিদা প্রত্যাশা অনুযায়ী না বাড়ায়, ব্যাংকটি তাদের আগের ইতিবাচক পূর্বাভাস সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছে। জেপি মর্গানের সাম্প্রতিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণের দাম আউন্সপ্রতি ৪,৩০০ ডলার এবং চতুর্থ প্রান্তিকে ৪,৫০০ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। অথচ, গত জুনের শুরুতে তারা বছর শেষে এই দাম ৬,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছিল।
এই দরপতনের ঝুঁকির পেছনের কারণ হিসেবে ব্যাংকটি মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সম্ভাব্য সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছে। গ্রীষ্মের বাকি সময়টিতে যদি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সূচকগুলো আশানুরূপ শক্তিশালী থাকে, তবে ফেড আগাম সুদহার বাড়িয়ে দিতে পারে। সাধারণত সুদহার বৃদ্ধি পেলে স্বর্ণের মতো মুনাফাবিহীন সম্পদের আকর্ষণ কমে যায়, কারণ বিনিয়োগকারীরা তখন অন্য লাভজনক সম্পদের দিকে ঝুঁকে পড়েন। গত ৩ জুলাইয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কিছুটা বেড়ে ৪,১৭৪ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছালেও বাজারের অস্থিরতা এখনো কাটেনি।
স্বল্পমেয়াদে জেপি মর্গান সতর্ক থাকলেও, দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের বাজারের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা নিয়ে তারা এখনো আশাবাদী। ব্যাংকটির মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ ক্রয়ের অব্যাহত প্রবণতা এবং ভৌত চাহিদা বৃদ্ধি ২০২৭ সাল পর্যন্ত স্বর্ণের দামের তেজ বজায় রাখতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে রুপা, প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম নিয়েও ব্যাংকটি তাদের পূর্বাভাস দিয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকার সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে প্লাটিনামের দাম আগামী বছরগুলোতে বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে দেশের বাজারেও স্বর্ণের দামের ঘনঘন পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) সর্বশেষ ঘোষণা অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৮ হাজার ৫১৬ টাকা ছাড়িয়েছে। বিশ্ববাজারের এই অস্থিরতার ঢেউ সরাসরি দেশের বাজারেও পড়ছে। বিনিয়োগকারী এবং ক্রেতাদের জন্য পরামর্শ হলো, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বাজার পরিস্থিতির ওপর নিয়মিত নজর রাখা, কারণ বিশ্ব অর্থনীতির যেকোনো ছোটখাটো পরিবর্তন মুহূর্তেই স্বর্ণের দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলছে।