
মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রতিনিধিদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি কঠোর অবস্থান নিয়ে জানিয়েছেন, ইরানের আইন অনুযায়ী পরিদর্শকদের প্রবেশের অধিকার কেবল দুটি নির্দিষ্ট স্থাপনার বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেহরান চুল্লি মধ্যে সীমাবদ্ধ। এই রূপরেখার বাইরে কোনো স্থাপনায় পরিদর্শক প্রবেশের সুযোগ নেই বলে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
গালিবাফ তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, ইরানের পার্লামেন্ট ও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, হামলার শিকার কেন্দ্রগুলোতে আইএইএ-র পরিদর্শকদের প্রবেশের আইনি কোনো ভিত্তি নেই। তিনি জানান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল যে কঠোর আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে দিয়েছে, ইরান তার বাইরে কোনো আন্তর্জাতিক চাপ বা অনুরোধের কাছে নতি স্বীকার করবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার প্রশ্নে এই সিদ্ধান্তে তেহরান অটল রয়েছে।
সম্প্রতি কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর গালিবাফের এই মন্তব্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ওই আলোচনায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপন করেছে। গালিবাফ কূটনীতি ও লড়াই উভয় ক্ষেত্রেই তার অটল অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে জানান, শত্রুপক্ষ কেবল ক্ষমতার ভাষাই বোঝে, তাই শক্তির জায়গা থেকেই তাদের মোকাবিলা করা হবে। এছাড়া প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রক্তের প্রতিশোধ হিসেবে আল-কুদস বা জেরুজালেম মুক্ত করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি। সব মিলিয়ে পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে ইরান যে কোনো ধরনের নমনীয়তা দেখাতে রাজি নয়, এই বক্তব্যের মাধ্যমে তা আবারও স্পষ্ট হলো।