
বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দেশের পুঁজিবাজারের কার্যক্রমে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। গতকাল অনুষ্ঠিত কমিশনের এক বৈঠকে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জকে (সিএসই) নিজস্ব বাজার নিয়ন্ত্রণ প্যারামিটার বা ব্যবস্থা নির্ধারণের পূর্ণ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে এখন থেকে এই স্টক এক্সচেঞ্জগুলো তাদের নিজস্ব নীতিমালা, রেগুলেশন এবং অপারেশনাল প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী সার্কিট ব্রেকার লিমিটসহ বাজারের অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা স্বাধীনভাবে নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন করতে পারবে।
এতদিন এই ব্যবস্থাগুলো কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হলেও, এখন স্টক এক্সচেঞ্জগুলো নিজেরাই বাজারের অস্থিরতা মোকাবিলা এবং সুষ্ঠু লেনদেন বজায় রাখার জন্য দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। সাম্প্রতিক সময়ে ডিএসইর পক্ষ থেকে দুর্বল এবং লোকসানি কোম্পানির শেয়ারের অস্বাভাবিক দরপতন রোধে সার্কিট ব্রেকারের সীমা অর্ধেক করার যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, সেই প্রেক্ষিতেই বিএসইসি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কমিশনের মতে, যেহেতু স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর নিজস্ব রেগুলেশনে এই ক্ষমতা রয়েছে, তাই তাদের নিজেরাই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
পুঁজিবাজারের মানোন্নয়নে একই বৈঠকে মিউচুয়াল ফান্ডের বিষয়েও নতুন নীতিমালা অনুমোদন করেছে বিএসইসি। এখন থেকে ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের ট্রাস্টিরা বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে লভ্যাংশ বিতরণ না করে সেই অর্থ পুনঃবিনিয়োগের অনুমোদন দিতে পারবেন। বিএসইসির এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ হলো, ওপেন-এন্ড মিউচুয়াল ফান্ডের বিনিয়োগকারীরা যেকোনো সময় তাদের ইউনিট সমমূল্যে (নেট অ্যাসেট ভ্যালু) ভাঙাতে পারেন। ফলে লভ্যাংশ না পেলেও বিনিয়োগকারীরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না, বরং পুনঃবিনিয়োগের মাধ্যমে ফান্ডের আকার ও ভ্যালু বৃদ্ধি পাবে যা দীর্ঘমেয়াদে তাদের জন্য সুফল বয়ে আনবে বলে কমিশন মনে করছে।