
বিশ্বকাপের মঞ্চে ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড হয়তো যুক্তরাষ্ট্রের ভক্তদের জন্য ছিল এক বড় হতাশার মুহূর্ত, কিন্তু এই দুঃখ ভুলিয়ে দিতে ডমিনোজ নিয়ে এসেছে দারুণ এক চমক। বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো খেলোয়াড় লাল কার্ড দেখলে সমর্থকদের ১ মিলিয়ন ডলার সমমূল্যের ফ্রি ‘ইমার্জেন্সি পিৎজা’ দেওয়ার যে মজার প্রতিশ্রুতি ডমিনোজ টুর্নামেন্টের শুরুতে দিয়েছিল, তা অবশেষে বাস্তবে রূপ নিল। বসনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের মাঝপথে বালোগুন মাঠ ছাড়লে ডমিনোজ তাদের সেই ঘোষণা অনুযায়ী ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষকে ফ্রি পিৎজা দেওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
ম্যাচের প্রথমার্ধে ফোলারিন বালোগুন গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে এগিয়ে নিলেও দ্বিতীয়ার্ধে তার সরাসরি লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনাটি পুরো স্টেডিয়ামে শোরগোল ফেলে দেয়। অনেক ফুটবলপ্রেমী এবং ধারাভাষ্যকার এই সিদ্ধান্তটিকে বেশ বিতর্কিত বলে অভিহিত করেছেন। কারণ ১০ জন খেলোয়াড় নিয়ে বিশ্বকাপের নকআউট ম্যাচ খেলা যেকোনো দলের জন্যই বিশাল চ্যালেঞ্জের। তবে বালোগুনের অনুপস্থিতি মার্কিন দলকে দমাতে পারেনি। দলের রক্ষণভাগ ছিল অবিশ্বাস্য রকমের শক্তিশালী এবং দীর্ঘক্ষণ চাপের মুখে থেকেও তারা বসনিয়াকে কোনো সুযোগ দেয়নি।
ম্যাচটির মোড় পুরোপুরি ঘুরে যায় ৮২তম মিনিটে, যখন মালিক টিলম্যানের জাদুকরী এক ফ্রি-কিক সরাসরি জালে প্রবেশ করে। এই গোলটি নিশ্চিত করে যে, যুক্তরাষ্ট্র কেবল টিকে রইল না, বরং তারা ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো নকআউট ম্যাচে জয়ের স্বাদ পেল। এই ঐতিহাসিক জয়ের মাধ্যমে দলটি সরাসরি রাউন্ড অব ১৬-এ নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। একদিকে দলের অভাবনীয় সাফল্য, আর অন্যদিকে ডমিনোজের কাছ থেকে ফ্রি পিৎজা পাওয়ার আনন্দ সব মিলিয়ে মার্কিন সমর্থকদের জন্য বুধবারের রাতটি ছিল স্মরণীয়।
তবে এই জয়ের মাঝেও যুক্তরাষ্ট্রের সামনে একটি বড় চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বালোগুনের লাল কার্ড। ম্যাচ অফিসিয়ালরা যদি ফাউলের ধরনটি গুরুত্বসহকারে দেখেন, তবে বালোগুন পরবর্তী বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচে নিষিদ্ধ হতে পারেন। দলের আক্রমণভাগের অন্যতম কাণ্ডারিকে হারিয়ে রাউন্ড অব ১৬-এর কঠিন লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র কতটা সামাল দিতে পারবে, তা নিয়ে এখন চলছে জোর আলোচনা। তবে আপাতত ভক্তরা তাদের দলের জয় আর পিৎজার আনন্দ নিয়েই মেতে থাকতে চাইছেন।