
ইরানের ইতিহাসে অন্যতম শোকাবহ ও বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় আয়োজনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পুরো জাতি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের এক হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও দাফনকে কেন্দ্র করে দেশটি এখন শোকের সাগরে নিমজ্জিত। ছয় দিনব্যাপী এই শোকানুষ্ঠান ইরানসহ প্রতিবেশী ইরাকের পাঁচটি শহরে বিস্তৃত হবে, যা শেষ হবে আগামী ৯ জুলাই তার নিজ শহর মাশহাদে দাফন সম্পন্ন করার মধ্য দিয়ে।
শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে প্রথম জানাজার মাধ্যমে এই আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর সোমবার তেহরানের রাজপথে এক শোকমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এই মিছিলে অংশগ্রহণকারী শোকাহত মানুষের ঢল পবিত্র শহর কোমে পৌঁছাবে এবং সেখান থেকে মরদেহ ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে মরদেহ মাশহাদে স্থানান্তর করা হবে, যেখানে ৯ জুলাই তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে। ইরান কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, এই দীর্ঘ আয়োজনে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ অংশ নেবেন, যা দেশটির ইতিহাসে নজিরবিহীন।
এই ঐতিহাসিক আয়োজনে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিনিধিরা আসতে শুরু করেছেন। রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ ৩০টিরও বেশি দেশের ঊর্ধ্বতন সরকারি প্রতিনিধি এবং ৯০টি দেশের ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফসহ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের উপস্থিতি এই জানাজাকে একটি বিশেষ কূটনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে।
এত বিশাল জনগোষ্ঠীর সমাগম ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে ইরানজুড়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। প্রতিটি শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ইতিহাসে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এই বিদায় কেবল একজন নেতাকে হারানোর বেদনা নয়, বরং দেশটির এক নতুন অধ্যায়ের সূচনার প্রতীক্ষায় থাকা এক বিশাল জাতীয় শোকের বহিঃপ্রকাশ।