
উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিদেশে নিয়ে সাইবার প্রতারণায় বাধ্য করার ঘটনা নতুন করে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে কম্বোডিয়ার বিভিন্ন সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে উদ্ধার পাওয়া আরও ১০৯ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছেন। জুন মাসেই মোট ৫৮৩ জন বাংলাদেশি সেখান থেকে ফিরে এসেছেন, যা মানবপাচারের এক ভয়াবহ চিত্র তুলে ধরে।
ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, একটি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তারা কম্বোডিয়ায় গিয়েছিলেন। কিন্তু পৌঁছানোর পর তাদের বৈধ কাজের ভিসা না দিয়ে টাকার বিনিময়ে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হয়। সেখানে তাদের বিদেশি নাগরিকদের টার্গেট করে অনলাইন প্রতারণা করতে বাধ্য করা হতো। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে না পারলে জুটত অমানবিক শারীরিক নির্যাতন ও ইলেকট্রিক শকের মতো ভয়াবহ শাস্তি। স্ক্যাম সেন্টারগুলোর ভেতরে আলাদা নির্যাতন কক্ষ থাকার কথাও জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্মের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, সাইবার স্ক্যাম বর্তমানে মানবপাচারের সবচেয়ে বিপজ্জনক রূপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভুয়া ওয়েবসাইট, ফেসবুক বা টেলিগ্রামে উচ্চ বেতনের চাকরির বিজ্ঞাপন দিয়ে তরুণদের প্রলুব্ধ করা হচ্ছে। এরপর বিদেশ নিয়ে তাদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সাইবার অপরাধে বাধ্য করা হচ্ছে। জুন মাসে ৫৮৩ জনের ফিরে আসা প্রমাণ করে যে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি এই আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্রের জালে আটকা পড়েছেন। তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত দালাল, রিক্রুটিং এজেন্সি এবং আন্তর্জাতিক চক্রকে অবিলম্বে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
বিএমইটির তথ্যানুযায়ী, গত দেড় বছরে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি কাজের উদ্দেশ্যে কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে কোনো রিক্রুটিং এজেন্সির চাকরির প্রস্তাব পাওয়ার পর সেটির বৈধতা সরকারি কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি। বিশেষ করে ভিজিট ভিসায় গিয়ে কাজের প্রলোভনে পা না দেওয়া এবং নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে বিএমইটিতে খোঁজ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া বা মিয়ানমারের মতো দেশগুলোতে বর্তমানে সাইবার স্ক্যাম সেন্টারগুলোর সংখ্যা বাড়ছে, তাই নতুন কোনো দেশে পাড়ি জমানোর আগে চাকরির প্রস্তাবটি পুরোপুরি যাচাই-বাছাই করা এখন সময়ের দাবি।
আপনি কি মনে করেন, বিদেশে চাকরির নামে এই ধরনের সাইবার প্রতারণা ঠেকাতে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর ওপর আরও কঠোর নজরদারি করা প্রয়োজন?