
অধিকৃত পশ্চিম তীরের ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক মানচিত্রকে চিরতরে বদলে দেওয়ার লক্ষ্যে এক ভয়াবহ পরিকল্পনা করেছে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলো। সম্প্রতি ইসরাইলি পত্রিকা ‘ইসরাইল হাইয়োম’-এর এক প্রতিবেদনে বেরিয়ে এসেছে যে, পশ্চিম তীরের ‘এ’ অঞ্চলের ১০০টি কৌশলগত স্থান দখলের জন্য একটি বিশেষ রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
পরিকল্পনাটি কী? ‘সেটলার ফার্মস অ্যাসোসিয়েশন’ এবং ‘হাভাত (ফার্মস) ফোরাম’-এর তৈরি এই পরিকল্পনায় ‘বাস্তবায়নের দিন’ নামে একটি দিনের কথা বলা হয়েছে, যেদিন ওই ১০০টি স্থানে বাহিনী মোতায়েন করে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই স্থানগুলো ১৯৯৫ সালের অসলো-২ চুক্তি অনুযায়ী সম্পূর্ণভাবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিকল্পনাটি ইসরাইলি সরকারের মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের কাছে ইতোমধ্যে উপস্থাপন করা হয়েছে। এমনকি ফিলিস্তিনের প্রধান শহরগুলোও এই পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।
আন্তর্জাতিক ও ফিলিস্তিনি প্রতিক্রিয়া: প্যালেস্টাইন লিবারেশন অর্গানাইজেশনের (পিএলও) অ্যান্টি-ওয়াল অ্যান্ড সেটেলমেন্ট কমিটির সভাপতি মুয়াইয়াদ শাবান এই প্রস্তাবটিকে পশ্চিম তীর সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে ইসরাইলের একটি চরম বিপজ্জনক ও উসকানিমূলক পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং বর্তমান ইসরাইলি সরকারের বৃহত্তর ও পরিকল্পিত নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
অমানবিক পরিস্থিতি ও পরিসংখ্যান: ইসরাইলি সেনাবাহিনীর প্রতিদিনের অভিযান এবং বসতি স্থাপনকারীদের আগ্রাসনে পশ্চিম তীরে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ১,১৭৩ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
আহত হয়েছেন ১২,৬৬৬ জন।
গ্রেফতার করা হয়েছে প্রায় ২৩ হাজার মানুষকে।
এই বসতি স্থাপনকারী গোষ্ঠীগুলোর এমন পরিকল্পনা কার্যকর হলে ওই অঞ্চলে সংঘাতের মাত্রা কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠলেও, ইসরাইলের এমন আগ্রাসী মনোভাব থামার কোনো লক্ষণ নেই।
পশ্চিম তীরের এই ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা ও বসতি স্থাপনের রাজনীতি মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতাকে কতটুকু ঝুঁকিতে ফেলছে বলে আপনি মনে করেন?