
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর বিক্রম খেতাবপ্রাপ্ত রাজনীতিবিদ মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, স্পিকার হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন শেষে তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিতে চান। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ ৫৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনের ইতি টানার এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখাকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে মেজর হাফিজ বলেন, তিনি ফুটবল খেলার রেফারির মতো দায়িত্ব পালন করতে চান। বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ও স্থায়ী কমিটির সদস্য হওয়া সত্ত্বেও স্পিকার হিসেবে তিনি দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে থেকে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের কাছেই গ্রহণযোগ্য সমাধান নিয়ে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, ‘আমি যাতে দলের বোঝা বহন না করি এবং দলকানা না হয়ে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে পারি, সেটাই আমার লক্ষ্য।’
গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বর্তমান সংসদ নিয়ে দেশবাসীর প্রত্যাশা অনেক বেশি উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, এবারের সংসদ সদস্যদের নির্বাচনের প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ এবং জনরায়ের প্রতিফলন। অন্য যেকোনো সংসদের চেয়ে এই পার্লামেন্টের সদস্যরা অনেক বেশি ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এসেছেন, তাই তার বিশ্বাস এই সংসদ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে জনকল্যাণে নজির স্থাপন করবে।
মুক্তিযুদ্ধের অসামান্য অবদান ও দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ভোলা থেকে সাতবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া মেজর হাফিজ বাণিজ্য, পানি সম্পদ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তার রাজনৈতিক জীবনের শ্রেষ্ঠ পুরস্কার হিসেবে এলাকাবাসীর অকুন্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসাকেই দেখছেন।
দীর্ঘ এই যাত্রায় কোনো অবৈধ সম্পদ অর্জনের পেছনে ছোটেননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের ভালোবাসাই তাকে আল্লাহ প্রতিদান হিসেবে দিয়েছেন। অবসরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জীবন তো একটা পর্যায়ে গিয়ে থামতেই হয়। ৫৫ বছরের রাজনৈতিক জীবন শেষে এখন অবসরে যাওয়ার সময় এসেছে।’ তার এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক অভিজ্ঞ ও প্রবীণ নেতার বিদায়ের বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।