
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর জাতীয় সংসদে সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনস্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী প্রস্তাব করেছেন। আয়কর সীমা বৃদ্ধি, করদাতাদের হয়রানি কমাতে টিআইএন (TIN) বাধ্যবাধকতা শিথিল এবং স্থানীয় শিল্পের বিকাশে শুল্ক কমানোর মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে তার বক্তব্যে।
প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত আয়কর অব্যাহতির সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়ে বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে ধাপে ধাপে করমুক্ত আয়ের যে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন। তার প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী করবর্ষগুলোতে এই সীমা ৪ লাখ, সাড়ে ৪ লাখ এবং ৫ লাখ টাকায় উন্নীত করা উচিত। এছাড়া, ব্যাংক হিসাব খোলা, সম্পত্তি নামজারি ও দলিল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে টিআইএন সনদ বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে তিনি তা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিনিয়োগ প্রদর্শন সংক্রান্ত বিধান নিয়ে জনমনে যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, তা দূর করতে তিনি অর্থমন্ত্রীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর বর্তমানে আরোপিত ১০ শতাংশ কর কমিয়ে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণায় বিনিয়োগ, ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাব স্থাপন এবং দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ সম্প্রসারণের শর্ত জুড়ে দিয়েছেন।
পার্বত্য ও সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে তিনি বিশেষ সুবিধার কথা বলেছেন। বর্তমানে পার্বত্য জেলায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আয়ের পাশাপাশি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বেতনের আয়কেও করমুক্ত করার সুপারিশ করেছেন তিনি।
স্থানীয় শিল্পের প্রসার ও রপ্তানি বাড়াতে তিনি চিংড়ি শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও ফিড অ্যাডিটিভ আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি ওষুধ ও শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত মধু আমদানির ওপর ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার এবং পিইটি রেজিন, পিভিসি ও কোল্ড-রোলড শিটসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক পুনর্বিবেচনা বা হ্রাসের আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। বাজেটের ওপর এই প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে তা সাধারণ করদাতা ও স্থানীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।