
প্রসূতি বা মাতৃত্বকালীন ছুটি দুবারের বেশি না পাওয়ার বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছে। এই বিধিনিষেধ কেন সংবিধান ও মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী হবে না, তা জানতে চেয়ে হাইকোর্ট রুল জারি করেছেন।
সম্প্রতি এই রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি শেষে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চ এই রুল জারি করেন। রিট আবেদনে দাবি করা হয়েছে, কোনো নারী শ্রমিকের মাতৃত্বকালীন সুবিধা সীমিত করা তার প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার ও কর্মক্ষেত্রের অধিকারের সাথে সাংঘর্ষিক। বিদ্যমান আইনে দুবারের বেশি প্রসূতি ছুটি না দেওয়ার যে বিধান রয়েছে, তা নারীদের জন্য বৈষম্যমূলক এবং এটি শ্রম আইন ও জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে কর্মরত নারী শ্রমিকরা এই বিধিনিষেধের কারণে কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। মাতৃত্বকালীন ছুটি একটি স্বাভাবিক অধিকার, যা কোনোভাবেই সংখ্যা দিয়ে সীমিত করা উচিত নয়। হাইকোর্টের এই রুল জারির ফলে বিষয়টি এখন আইনি পর্যালোচনার কেন্দ্রে এসেছে। আদালত সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের (মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষ) নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের শ্রম আইন ও নারী কর্মীদের অধিকার সুরক্ষার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হতে পারে। যদি আদালত শেষ পর্যন্ত এই বিধিনিষেধকে বাতিল করেন, তবে দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতে কর্মরত লক্ষাধিক নারী কর্মী উপকৃত হবেন এবং মাতৃত্বকালীন অধিকারের পরিধি আরও বিস্তৃত হবে।
এই রিট আবেদনের মাধ্যমে দেশের শ্রম আইন সংশোধনের দাবিও জোরালো হয়েছে, যাতে প্রসূতি ছুটির ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক বা সীমাবদ্ধতা না থাকে। আদালতের এই রুলে দেশের সুশীল সমাজ ও নারী অধিকার কর্মীরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।