
ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জোরালো আপত্তির মুখে প্রস্তাবিত প্যাকেজ ভ্যাট ব্যবস্থা কার্যকর না করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ফলে নতুন বাজেট প্রস্তাবনা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা আর কার্যকর হচ্ছে না এবং আগের নিয়মেই ভ্যাট ব্যবস্থা পরিচালিত হবে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বার্ষিক টার্নওভার ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ব্যবসায়ীদের কোনো ভ্যাট দিতে হবে না। তবে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর বা বিআইএন গ্রহণের বিদ্যমান বাধ্যবাধকতা আগের মতোই বলবৎ থাকবে। ব্যাংক হিসাব খোলা, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন কিংবা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য বিআইএন থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
চলতি বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এলাকা, বাজার ও ব্যবসার ধরন অনুযায়ী নির্দিষ্ট অঙ্কের প্যাকেজ ভ্যাট চালুর প্রস্তাব করা হয়েছিল। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় জানিয়েছিলেন যে, এই ব্যবস্থা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের হিসাব সংরক্ষণের জটিলতা থেকে মুক্তি দেবে এবং কর প্রদানকে সহজ করবে। মুদি দোকান, তৈরি পোশাক, কনফেকশনারি, ইলেকট্রনিকস ও হার্ডওয়্যারসহ মোট ১৬টি খাতকে এই নতুন প্যাকেজ ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা ছিল সরকারের।
তবে বাজেট ঘোষণার পর থেকেই ব্যবসায়ী সমাজ ও বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে। তাদের আশঙ্কা ছিল, প্যাকেজ ভ্যাট কার্যকর হলে ছোট ব্যবসায়ীদের হয়রানি বৃদ্ধি পাবে এবং এসএমই খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ব্যবসায়ীদের এই দাবি ও উদ্বেগের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এই বিতর্কিত প্রস্তাব থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বর্তমানে বার্ষিক টার্নওভার ৩০ থেকে ৫০ লাখ টাকার মধ্যে হলে ৪ শতাংশ হারে টার্নওভার ট্যাক্স দিতে হয়, যেখানে ইনপুট-আউটপুট ভ্যাট সমন্বয়ের প্রয়োজন পড়ে না। ৫০ লাখ টাকার বেশি টার্নওভারের ক্ষেত্রে ১৫ শতাংশ হারে সাধারণ ভ্যাট প্রযোজ্য হয়। সরকার এই বর্তমান কাঠামোটাই বজায় রাখছে, যাতে ব্যবসায়ীরা স্বাচ্ছন্দ্যে তাদের অর্থনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারের এই সিদ্ধান্ত ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের শঙ্কা দূর করবে।