
জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান দেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানির সংকট নিরসনে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা যেকোনো মূল্যে বাস্তবায়নের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ ও শুষ্ক মৌসুমে কৃষকের পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি সংসদকে অবহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে ১২ ফেব্রুয়ারির অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের দেওয়া দায়িত্ব পালনে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি এই বাজেটকে 'জীবনবান্ধব বাজেট' হিসেবে অভিহিত করে বলেন, এর মূল লক্ষ্য হলো অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগীর নিয়ন্ত্রণ থেকে বের করে এনে সব নাগরিকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। বর্তমান সরকারের দর্শনের ভিত্তি হলো 'সবার আগে বাংলাদেশ' এবং 'সবার জন্য বাংলাদেশ'।
বাজেটের মূল অগ্রাধিকারগুলোর কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার দরিদ্র ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা জোরদার, অর্থনীতির শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। মালয়েশিয়া ও চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরাও বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগবান্ধব নীতিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
সংসদ অধিবেশনে বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বক্তব্যের পর, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি বিশেষ বিবৃতিতে জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের আসনে মসজিদ, কবরস্থান ও ঈদগাহের উন্নয়নের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন এলাকার আওতাধীন আসনগুলোতে পরবর্তীতে জেলা পরিষদের মাধ্যমে এই বরাদ্দ পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।