
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগের জেরে বিশ্ববাজারে মূল্যবান ধাতু স্বর্ণ ও রুপার দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। সোমবার (২৯ জুন) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে এই প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪,০৬১ দশমিক ৩৫ ডলারে নেমে এসেছে। আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচার্সের দামও শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪,০৭৬ দশমিক ৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। চলমান এই দরপতনের ফলে টানা চতুর্থ মাসের মতো স্বর্ণের বাজার মন্দার মুখে রয়েছে, যা মাসিক হিসেবে প্রায় ১০ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। স্বর্ণের পাশাপাশি স্পট সিলভারের দামও ১ দশমিক ১ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৫৮ দশমিক ৫১ ডলারে নেমেছে। তবে এই পরিস্থিতির বিপরীত চিত্র দেখা গেছে প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারে; এগুলোর দাম যথাক্রমে ১ শতাংশ এবং শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলা এবং পরবর্তী পাল্টাপাল্টি সামরিক উত্তেজনার কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম বিশ্ববাজারে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার জানিয়েছেন, তেলের উচ্চ মূল্য বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোকে সুদহার বাড়ানোর দিকে ধাবিত করছে। সুদহার বাড়লে বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণের মতো সুদবিহীন সম্পদের আকর্ষণ হ্রাস পায়।
যদিও তেহরান ও ওয়াশিংটন হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে পুনরায় আলোচনার টেবিলে বসতে সম্মত হয়েছে, তবুও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির অনিশ্চয়তা মূল্যবান ধাতুর বাজারের ওপর নেতিবাচক চাপ সৃষ্টি করে রেখেছে। আগামী দিনগুলোতে সুদহার সংক্রান্ত নীতি এবং ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্বর্ণের বাজারের গতিপথ নির্ধারণে প্রধান ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।