
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের প্রক্রিয়া আবারও দীর্ঘায়িত হয়েছে। রোববার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত আগামী ১৫ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করেছেন। এই নিয়ে টানা সপ্তদশবারের মতো মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময়সীমা পেছাল, যা বাদীপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিচ্ছে।
মামলার তদন্তকারী সংস্থা সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর কাদির ভূঁঞা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদনটি আদালতে জমা দিতে না পারায় আদালত এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান। মূলত গত জানুয়ারি মাসে ডিবি পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করলেও বাদীপক্ষ সেই তদন্তে অসন্তোষ জানিয়ে নারাজি আবেদন করেছিল। আদালত সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলাটি সিআইডির কাছে অধিকতর তদন্তের জন্য হস্তান্তর করেন।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর, যখন শরিফ ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে গণসংযোগে বের হয়েছিলেন। বিজয়নগর এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তী সময়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়ার পর সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের একটি হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করেন, যা পরে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
প্রাথমিক তদন্তে ডিবি পুলিশ সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করেছিল। তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন পার হয়ে যাওয়ার পরেও সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল বারবার পিছিয়ে যাওয়ায় মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে এখন নানামুখী প্রশ্ন উঠছে। পরিবার ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে আসছেন।