
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন বাজেটকে জনবান্ধব ও দূরদর্শী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, সংবিধানের মৌলিক অধিকার ও রাষ্ট্রীয় মূলনীতিকে প্রাধান্য দিয়ে সর্বস্তরের মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যেই এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে জানান, বাজেটের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো এর সফল বাস্তবায়ন এবং সরকার সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
প্রতিমন্ত্রী গত দেড়-দুই দশকের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সমালোচনা করে বলেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলোর সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে পদ্ধতিগত ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে, তা রাতারাতি কাটিয়ে ওঠা কঠিন। তবে বর্তমান সরকারের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ভঙ্গুর অর্থনীতি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং পরিবর্তনের হাওয়া বইছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে ফারজানা শারমীন বলেন, তাদের অন্যতম প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’-এর পাইলটিং সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া কৃষক কার্ড এবং যুবসমাজের কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবারের বাজেটে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। এখন সরকারের মূল লক্ষ্য হলো—এই সুবিধাগুলো যেন প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে স্বচ্ছতার সঙ্গে পৌঁছায়।
জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই বাজেট আত্মনির্ভরশীল ও আত্মমর্যাদাশীল নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরেছে। তিনি সব রাজনৈতিক পক্ষকে কাদা ছোড়াছুড়ি বাদ দিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে একটি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান।
নিজের নির্বাচনি এলাকা নাটোরের প্রসঙ্গ টেনে প্রতিমন্ত্রী উত্তরাঞ্চলের চরাঞ্চলগুলোর সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, বালুমহাল সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং চরাঞ্চলগুলোতে রিনিউয়েবল এনার্জি বা সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে উন্নয়নের ধারা নিশ্চিত করা হবে।
সব মিলিয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেট বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
সূত্র: জাতীয় সংসদ অধিবেশন।