
বিশ্বকাপ ফুটবলের গ্রুপ জে-এর শেষ ম্যাচে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়ার মধ্যকার লড়াইটি শেষ হয়েছে এক অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায়, যেখানে উভয় দলই নকআউট পর্বে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় পয়েন্ট নিশ্চিত করতে সক্ষম হয়েছে। ম্যাচের অধিকাংশ সময় অস্ট্রিয়া এগিয়ে থাকলেও ৯৩ মিনিটে রিয়াদ মাহরেজের গোলে আলজেরিয়া ৩-২ ব্যবধানে লিড নেয়, যা সেই মুহূর্তে ইরানকে নকআউট পর্বে যাওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে, ৯৬ মিনিটে সাশা কালাইদজিচ দুর্দান্ত এক হেডে সমতাসূচক গোল করে অস্ট্রিয়াকে ১ পয়েন্ট এনে দেন। এই ড্রয়ের ফলে অস্ট্রিয়া ও আলজেরিয়া দুই দলই গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পার হয়েছে, যার ফলে তিন ম্যাচে অপরাজিত থেকেও ইরানকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয়েছে।
ম্যাচটি শুরু থেকেই ছিল অত্যন্ত উত্তেজনাকর এবং কোনো এক পর্যায়ে মনে হয়েছিল উভয় দলই পয়েন্ট ভাগাভাগি করে পরের রাউন্ডে যাবে। তবে ১৯৮২ সালের সেই কুখ্যাত 'ডিসগ্রেস অফ গিজোন'-এর মতো পরিস্থিতি এখানে তৈরি হয়নি, বরং পুরো ম্যাচটিই খেলা হয়েছে দারুণ প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে। অস্ট্রিয়ার হয়ে মার্কো আরনাউতোভিচ ও মার্সেল সাবিৎজার গোল করলেও আলজেরিয়ার হয়ে রিয়াদ মাহরেজ ছিলেন দুর্দান্ত। মাহরেজের জোড়া গোল ও কালাইদজিচের শেষ মুহূর্তের সমতাসূচক গোলটি ফুটবল ভক্তদের জন্য ছিল এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। অস্ট্রিয়া নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পর গোল খেয়েও ম্যাচে ফেরার নজির গড়েছে, যা বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক বিরল ঘটনা।
এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ জে-এর রানার্সআপ অস্ট্রিয়া আগামী বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেসে স্পেনের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের লড়াইয়ে নামবে। অন্যদিকে, আলজেরিয়া সেরা তৃতীয় দল হিসেবে সুযোগ পাওয়ায় তারা শুক্রবার ভ্যাঙ্কুভারে সুইজারল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। ইরান তিন ম্যাচে তিনবার ড্র করে অপরাজিত থাকার পরও কপাল দোষে বিদায় নিয়েছে। সবমিলিয়ে ক্যানসাস সিটির এই ম্যাচটি ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে একটি শ্বাসরুদ্ধকর ফিনিশিং হিসেবে দীর্ঘকাল স্মরণীয় হয়ে থাকবে, যেখানে শেষ মুহূর্তের গোলে বদলে গেছে টুর্নামেন্টের ভাগ্য।
সূত্র: বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ প্রতিবেদন।