
মৌলভীবাজারের বড়লেখা সীমান্তে গত এক সপ্তাহ ধরে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের পুশইনের অপচেষ্টা চালাচ্ছে বিএসএফ। তবে বিজিবি এবং স্থানীয় জনসাধারণের কঠোর প্রতিরোধে বিএসএফের সেই প্রচেষ্টা বারবার ব্যর্থ হচ্ছে। শুক্রবার ও শনিবার দিনভর বড়লেখার বোবারথল সীমান্ত এলাকায় বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে মুখোমুখি উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে।
সীমান্তের উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন বড়লেখা ও জুড়ী উপজেলার ১১৪ কিলোমিটার সীমান্তের অধিকাংশ এলাকা দুর্গম এবং গহীন অরণ্যে ঘেরা। এই ভৌগোলিক সুযোগ কাজে লাগিয়ে গত এক বছরে অন্তত দেড় হাজার অবৈধ অনুপ্রবেশকারীকে বিএসএফ পুশইন করেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে বোবারথল, পাল্লাথল ও কুমারসাইল সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের এই প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। গত এক সপ্তাহ ধরে বিএসএফ বোবারথল ও ষাটঘরি সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশকারীদের জড়ো করার চেষ্টা করলে বিজিবি সেখানে টহল জোরদার করে।
জনতার প্রতিরোধ শুক্রবার দুপুরে বিএসএফ পুনরায় পুশইনের চেষ্টা চালালে স্থানীয় জনসাধারণ লাঠিসোটা নিয়ে শূন্যরেখার বাংলাদেশ অংশে অবস্থান নেন। বিজিবি হ্যান্ডমাইকে দফায় দফায় বিএসএফকে হুঁশিয়ারি প্রদান করে। দুপুর থেকে রাত আটটা পর্যন্ত চলে বিজিবি-বিএসএফের এই ‘চোর-পুলিশ’ খেলা। শনিবারও একই সীমান্তে বিএসএফের অনুপ্রবেশের অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি ও এলাকাবাসী।
বিজিবির বক্তব্য বিজিবি-৫২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতাউর রহমান জানান, গত কয়েকদিন ধরে বিএসএফ বড়লেখার বোবারথল সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশকারীদের ঠেলে পাঠানোর জোর চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “পুশইন ঠেকাতে আমাদের জওয়ানরা সর্বোচ্চ তৎপর রয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণ বিজিবিকে নিয়মিত সহযোগিতা করছেন। শনিবারও আমরা বিএসএফের কয়েক দফা প্রচেষ্টা প্রতিহত করেছি।”
সীমান্তে বিএসএফের এমন কর্মকাণ্ডের ফলে বড়লেখা সীমান্ত অঞ্চলের জনমনে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিজিবি তাদের কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে।
সূত্র: মৌলভীবাজার সীমান্ত প্রতিবেদন।