
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মাঝে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান লড়াই বন্ধের লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ওয়াশিংটনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার এবং লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহর উপস্থিতিতে এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি ঘোষণা করা হয়। কয়েক মাস ধরে চলা ভয়াবহ সংঘর্ষ ও রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর এই পদক্ষেপকে শান্তি প্রতিষ্ঠার পথে প্রথম বড় বিজয় হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি হিজবুল্লাহর রকেট হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই নতুন সংকটে গত কয়েক মাসে লেবাননে চার হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, যা এই অঞ্চলকে মানবিক বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিয়েছিল।
চুক্তির বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ না করা হলেও উভয় পক্ষই তাদের ইতিবাচক অবস্থানের কথা জানিয়েছে। লেবাননের রাষ্ট্রদূত নাদা হামাদাহ স্পষ্ট করেছেন যে, এই চুক্তি লেবাননের হারানো সার্বভৌমত্ব ফিরিয়ে আনা এবং বাস্তুচ্যুত সাধারণ মানুষের নিজ ভূমিতে ফেরার সুযোগ করে দেবে। তার মতে, বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে সব লেবাননি নাগরিকদের শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে বেঁচে থাকার পরিবেশ নিশ্চিত করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য। অন্যদিকে, ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটার জানিয়েছেন, এই চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো দুই দেশের মধ্যে প্রকৃত শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে একে অপরের সার্বভৌমত্বকে সম্মান জানিয়ে উভয় দেশের নাগরিকরা নিরাপদে বসবাস করতে পারবে।
গত কয়েক মাসে সামরিক অভিযান ও রকেট হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল, তা প্রশমিত করতে এর আগেও বেশ কিছু যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল। তবে মাঠপর্যায়ে কোনোটিই দীর্ঘস্থায়ী হয়নি এবং বারবার ভেস্তে গিয়েছিল। এবারের চুক্তিটি কতটা কার্যকর হবে তা নিয়ে জনমনে সংশয় থাকলেও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যস্থতা এবং দুই দেশের রাষ্ট্রদূতের সরাসরি অংশগ্রহণে একটি ভিন্নধর্মী আশার সঞ্চার হয়েছে। তবে শান্তি ও সমৃদ্ধির পথে এই প্রথম পদক্ষেপটি কতটা স্থায়ী হয় এবং দুই দেশের সীমান্তে উত্তেজনা কমে আসে কি না, তা দেখার জন্য এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমের দিকে নিবদ্ধ রয়েছে।