
ভোলার দ্বীপ উপজেলা চরফ্যাশনের প্রায় ছয় লাখ মানুষের চিকিৎসাসেবার প্রধান ভরসা ১০০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কিন্তু দীর্ঘদিনের জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা এখন বিপর্যস্ত। বর্তমানে হাসপাতালের ৪২ জন মেডিকেল অফিসারের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র ১৬ জন। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব এবং আধুনিক পরীক্ষার যন্ত্রপাতির ঘাটতি রোগীদের ভোগান্তিকে চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে।
প্রতিদিন বহির্বিভাগে ৪০০ থেকে ৫০০ জন এবং জরুরি বিভাগে বিপুলসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসকের অভাবে তাদের সেবা নিশ্চিত করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. মাকলুকুর রহমান জানান, ১০ জন কনসালট্যান্ট থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অ্যানেসথেসিয়া ও অর্থোপেডিক বিভাগের মাত্র দুজন কর্মরত আছেন। ফলে গুরুতর রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতাল বা বরিশাল-ঢাকায় রেফার করা ছাড়া উপায় থাকে না। দীর্ঘ যাত্রাপথে অনেক সময় রোগীদের শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
হাসপাতালটির প্যাথলজি বিভাগের অবস্থাও নাজুক। সেল কাউন্টার, বায়োকেমিস্ট্রি অ্যানালাইজারসহ আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা বাইরে থেকে করাতে গিয়ে রোগীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ। এছাড়া টয়লেট ও বিশুদ্ধ পানির মতো সাধারণ সুযোগ-সুবিধারও অভাব রয়েছে বলে জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শোভন বসাক জানান, জনবল সংকট থাকলেও চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, চরফ্যাশনের বিশাল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরসনে দ্রুত প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করা এখন সময়ের দাবি। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে এই জনপদের স্বাস্থ্যসেবা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।