
প্রাথমিক শিক্ষায় সাংস্কৃতিক চর্চা ও সৃজনশীলতার প্রসার ঘটাতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ ঘোষণা দিয়েছেন যে, সংগীত, চারুকলা ও নাট্যকলার মতো সৃজনশীল বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। শিশুদের সামগ্রিক বিকাশে এই উদ্যোগটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমান সরকারের নতুন কারিকুলামে সাংস্কৃতিক শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। আবৃত্তি, কেরাত, বক্তৃতা, সংগীত, নৃত্য ও নাটকের মতো সৃজনশীল কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে সহায়ক। এই কার্যক্রমগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য দক্ষ ও প্রশিক্ষিত মানবসম্পদ প্রয়োজন। আর সেই লক্ষ্যেই সংগীত ও চারুকলার গ্র্যাজুয়েটদের শিক্ষকতা পেশায় আকৃষ্ট করার জন্য বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কার্যকর নীতিমালা তৈরির কাজ চলছে।
অনুষ্ঠানে ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট করেন যে, প্রাথমিক শিক্ষায় সাংস্কৃতিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি শিশুদের সৃজনশীলতা ও আত্মপ্রকাশের সুযোগ বাড়ানোর জন্য একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। এ নিয়ে কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় বিতর্ক সৃষ্টি না করে শিশুদের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সবাইকে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. অনিমা রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন সৃজনশীল বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, তেমনি প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিল্প-সংস্কৃতির চর্চায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।