
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। ভারতের সংবাদমাধ্যম উইয়ন নিউজ সূত্রে জানা গেছে, এই শোকানুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এর আগে খামেনির মৃত্যুর পর ভারত সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিসরি ইরানি দূতাবাসে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করে সমবেদনা জানিয়েছিলেন।
ইরান ও ভারতের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ও ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা বিবেচনা করে এই আমন্ত্রণ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিম এশিয়ার উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর নিয়মিতভাবে ইরানি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে অংশ নিতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দিল্লি সফর এবং প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও জোরদার করেছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, শোকানুষ্ঠান ও দাফনের জন্য কয়েকদিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই তেহরানে এই শোকানুষ্ঠান শুরু হবে এবং ৬ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এরপর ৭ জুলাই অনুষ্ঠানটি পবিত্র কোম নগরীতে স্থানান্তর করা হবে। সবশেষে আগামী ৯ জুলাই খামেনির জন্মস্থান উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে তাকে সমাহিত করা হবে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের বিমান হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যু হয়। বর্তমানে এই শোকানুষ্ঠানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে ইরান ও তার মিত্র দেশগুলোর মধ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী এই আয়োজনে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ঘোষণা আসেনি।