
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে এবং প্রতিদিন নতুন করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ জন শিশু মারা গেছে। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে চলতি জুন মাস পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গজনিত জটিলতায় মোট ৬৮৯টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ৯৩ জন এবং হামের উপসর্গে ৫৯৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।
নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনক। গত একদিনে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে ১,০৮৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ৯৫,৭৬০ জনের শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে এবং নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১,৩৯০ জনে। হাসপাতালে এ পর্যন্ত মোট ৭৯,৬৩৭ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন, যার মধ্যে ৭৫,৮৮২ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অনেক শিশু এখনো টিকার আওতার বাইরে রয়ে গেছে। বিশেষ করে যেসব অভিভাবক এখনো তাদের সন্তানকে টিকা দেননি, তাদের দ্রুত সরকারি টিকাদান কেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২৮ জুন দেশব্যাপী জাতীয় ভিটামিন-এ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে, যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হবে বলে আশা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হাসপাতালগুলোতে হামের ওয়ার্ডগুলোতে রোগীর চাপ কিছুটা কমলেও শয্যা এখনো খালি নেই। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল হাসপাতালে চিকিৎসা নয়, বরং বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা এবং সচেতনতা বৃদ্ধিই পারে হাম নির্মূলে কার্যকর ভূমিকা রাখতে। অভিভাবকদের সন্তানের জ্বর, র্যাশ বা শরীরে জ্বালাপোড়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।