
দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় বিরাজমান বৈষম্য দূর করতে আগামী বছর থেকে নতুন এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, এখন থেকে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সব আবশ্যিক ও সাধারণ বিষয়ের পরীক্ষা একই দিনে এবং অভিন্ন বা একক প্রশ্নপত্রে অনুষ্ঠিত হবে। আজ বুধবার রাজধানীর আজিমপুর গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একই সিলেবাস ও রাষ্ট্রকাঠামোয় ভিন্ন ভিন্ন বোর্ডে আলাদা আলাদা প্রশ্নপত্রের কোনো যৌক্তিকতা নেই। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছর ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডকে একক প্রশ্নপত্রের আওতায় আনা হয়েছে। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি বোর্ডের বাংলা ও ইংরেজির মতো সাধারণ বিষয়গুলোকেও এই অভিন্ন পরীক্ষার প্রক্রিয়ায় একযোগে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তিনি পরীক্ষায় প্রশ্ন বিতরণে যেকোনো ধরনের কোড বিভ্রাট বা ভুল সম্পর্কে কর্মকর্তাদের কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন।
পাশাপাশি শিক্ষা খাতে বিদ্যমান নিয়োগজট ও মামলা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে আইনি জটিলতা তৈরি করে এনটিআরসিএসহ বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রম স্থবির করে রেখেছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যারা দেশের শিক্ষা ও জাতি গঠনের অগ্রযাত্রায় বাধা সৃষ্টি করছে, তারা রাষ্ট্রের শত্রু। সরকার এসব মামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
এনটিআরসিএ-এর মূল উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষকদের যোগ্যতার রাষ্ট্রীয় সনদ নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এটি গঠন করা হয়েছিল, কিন্তু বিগত সরকার একে অনেকটা ‘ডাল-খিচুড়ি’ বানিয়ে ফেলেছে। এছাড়া বিগত সময়ে অপরিকল্পিতভাবে এবং নিয়ম বহির্ভূতভাবে গড়ে ওঠা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সুষ্ঠু রেগুলেশন বা নিয়মের মধ্যে আনতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।