
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী শীর্ষ অধিকারকর্মী মাহরাং বেলুচ ও তাঁর সহযোগী সিবগাতুল্লাহকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে কোয়েটার একটি সন্ত্রাসবিরোধী আদালত। ২০২৪ সালের একটি সমাবেশে আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য শাব্বির আহমেদকে হত্যার অভিযোগে তাঁদের এই দণ্ড দেওয়া হয়। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, মাহরাং বেলুচের উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে জনতা ওই সেনাসদস্যের ওপর হামলা চালায়।
এই রায় ঘোষণার পরপরই আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় পর্যায়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। মাহরাং বেলুচের আইনি দল জানিয়েছে, বিচারপ্রক্রিয়াটি ছিল সম্পূর্ণ গোপনীয় এবং আসামিপক্ষকে সাক্ষীদের জেরা করার কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। হিউম্যান রাইটস কমিশন অব পাকিস্তান (এইচআরসিপি) এই রায়কে একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করেছে। মানবাধিকার কর্মী গ্রেটা থুনবার্গও একে ‘বিচারের নামে প্রহসন’ বলে মন্তব্য করেছেন।
মাহরাং বেলুচ দীর্ঘ সময় ধরে বেলুচিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। ২০০৯ সালে তাঁর বাবাকে গুম করার পর থেকে তিনি আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৩ সালের শেষ দিকে ইসলামাবাদ অভিমুখে প্রায় ১,০০০ মাইল দীর্ঘ পদযাত্রার নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পান এবং ২০২৪ সালে বিবিসির ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় স্থান পান। তাঁর সংগঠন বিওয়াইসি বরাবরই পাকিস্তান সরকারের আনা অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
পাকিস্তান সরকার এই রায়ের পক্ষে অকাট্য প্রমাণের দাবি করলেও, অধিকারকর্মী ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো এটিকে ভিন্নমত দমনের একটি কৌশল হিসেবে দেখছে। আদালত একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তির উত্তরাধিকারীদের ২ লাখ পাকিস্তানি রুপি জরিমানার আদেশ দিয়েছেন। রায় প্রত্যাখ্যান করে মাহরাং বেলুচের পরিবার ও আইনজীবীরা এই বিচার প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছেন।