
আওয়ামী লীগ দল হিসেবে চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ হবে কি না, তা আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার তথ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে দলটি বিচারাধীন রয়েছে এবং তাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দলটি মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত কি না, সেই বিচারের ওপরই তাদের চূড়ান্ত রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঠে সরব হওয়ার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, দলটি বর্তমানে যে অবস্থায় আছে, তাতে মাঠে কোনো ধরনের কর্মসূচি পালন করা আইন ভঙ্গ করার শামিল। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সরকার এ ধরনের যেকোনো অবৈধ কার্যক্রমের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া রাজনৈতিক দলগুলোর মাঠে অবস্থান নেওয়াকে তিনি মূলত প্রতীকী বলে মন্তব্য করেন।
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর মতো কোনো ‘নৈতিক সাহস’ অবশিষ্ট নেই বলেও মন্তব্য করেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, যারা মাফিয়া কর্মকাণ্ড, লুটপাট ও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের জনসম্মুখে বড় গলায় কথা বলার নৈতিক ভিত্তি নেই। তিনি মনে করেন, জনগণ এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া দলটি বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা তৈরির মতো সক্ষমতা বা সাহস হারিয়েছে।
পরিশেষে, সরকার কোনোভাবেই আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ দেবে না এবং তাদের অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া আইন মেনেই চলবে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে জোর দেওয়া হয়। মূলত দলটির চূড়ান্ত আইনি অবস্থান এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।