
সুইজারল্যান্ডের বুর্গেনস্টকে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছেন, ইরান আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের পুনরায় তাদের দেশে প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছে। ভ্যান্স এই সিদ্ধান্তকে মার্কিন জনগণের জন্য একটি বড় মাইলফলক এবং ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধের পথে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই শান্তি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের এই দাবির বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করেছেন যে, পরমাণু কর্মসূচি পরিদর্শনের বিষয়ে ইরান নতুন করে কোনো প্রতিশ্রুতি দেয়নি। তেহরানের ভাষ্যমতে, পরিদর্শকদের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্পৃক্ততা দেশটির সংসদ এবং সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের বিদ্যমান প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই পরিচালিত হবে। আইএইএ-এর পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
বর্তমান সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ইরানের ওপর থেকে তেল সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে, যার ফলে দেশটি অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্য বিক্রির সুযোগ পাচ্ছে। এই অর্থনৈতিক ছাড়ের বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা এবং আইএইএ পরিদর্শকদের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে দাবি করেছে মার্কিন অর্থ বিভাগ। তবে পরমাণু সক্ষমতা যাচাইয়ের বিষয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য কূটনৈতিক অস্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডে চলমান এই আলোচনা থেকে ইরানের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা তেহরানে ফিরে গেলেও, কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। উভয় দেশ আগামী ৬০ দিনের মধ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ নিয়ে কাজ করছে। মূলত লেবানন সীমান্ত পরিস্থিতি এবং সংঘাত নিরসনের ওপরই এই সমঝোতার সাফল্য নির্ভর করছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।