
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখার বিনিময়ে ৫০ কোটি টাকার ঘুষের প্রস্তাব পাওয়ার দাবি করেছিলেন কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্যের পর ঘুষ প্রস্তাবকারীদের পরিচয় প্রকাশের দাবিতে আইনি নোটিশ দিলেও কোনো সাড়া না পাওয়ায়, এবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করা হয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট গত ২৬ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়ায় আয়োজিত একটি ইফতার মাহফিলে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা দাবি করেন, কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ বন্ধ রাখার জন্য তিনি তিন দিনে ৫০ কোটি টাকার বেশি ঘুষের প্রস্তাব পেয়েছেন। তার এই বক্তব্য সেই সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
দুদকে আবেদনের কারণ ঘটনার দীর্ঘ সময় পার হলেও সংশ্লিষ্ট ঘুষ প্রস্তাবকারীদের নাম-পরিচয় জনসমক্ষে প্রকাশ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য হৃদয় হাসান। তিনি বলেন, গত ১ এপ্রিল তিনি সংসদ সদস্যকে এ বিষয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলেন, যাতে সাত দিনের মধ্যে প্রস্তাবকারীদের নাম প্রকাশ অথবা তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তিনি সোমবার (২২ জুন) দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর এই আবেদন জমা দেন।
আবেদনের মূল দাবি দুদকে দাখিল করা আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে: ১. জনসমক্ষে করা সংসদ সদস্যের এই মন্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য যথাযথ অনুসন্ধান প্রয়োজন। ২. প্রয়োজনে মুফতি আমির হামজাকে দুদকে তলব করে জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানানো হয়েছে। ৩. ঘুষের প্রস্তাব একটি গুরুতর দুর্নীতিমূলক অপরাধ, যা রাষ্ট্র ও জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত, তাই এর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া আবশ্যক।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্যসচিব প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকারও এই দাবিকে সমর্থন জানিয়ে বলেছেন, ঘুষের অফার দেওয়ার বিষয়টি একটি ফৌজদারি অপরাধ, তাই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম প্রকাশ করা দায়িত্বশীলতা ও ন্যায়বিচারের অংশ। তবে এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি।