
প্রচণ্ড তাপদাহকে উপেক্ষা করে ফ্রান্সজুড়ে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী ‘ফেত দ্য লা মিউজিক’ বা বিশ্ব সঙ্গীত উৎসব। গত রোববার (২১ জুন) রাজধানী প্যারিসসহ দেশটির বিভিন্ন শহর, জনপদ ও পর্যটন এলাকাগুলোতে হাজারো শিল্পী ও লাখো দর্শকের অংশগ্রহণে এই উৎসব এক বিশাল সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়। ১৯৮২ সালে ফরাসি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে শুরু হওয়া এই উৎসবটি এখন বিশ্বের ১২০টিরও বেশি দেশে সমাদৃত। আবহাওয়া বিভাগ দেশের একাধিক অঞ্চলে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করলেও সঙ্গীতপ্রেমীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ও আয়োজকদের সচেতনতায় উৎসবের আমেজে কোনো ভাটা পড়েনি। দর্শকদের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত
প্যারিসের ঐতিহাসিক চত্বর, পার্ক, ক্যাফে এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে দিনভর ও রাত পর্যন্ত চলেছে সঙ্গীত পরিবেশনা। জ্যাজ, রক, পপ, শাস্ত্রীয়, লোকসঙ্গীত, র্যাপ এবং ইলেকট্রনিক মিউজিকসহ বিভিন্ন ধারার শিল্পীরা এতে অংশ নিয়েছেন। লিয়ঁ, মার্সেই, তুলুজ, লিল, স্ট্রাসবুর্গ ও বোর্দোর মতো প্রধান শহরগুলোতে মানুষের স্রোত দেখা গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্পেন, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জাপান, জার্মানি, ইতালি ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটকরা এই উৎসবের বৈচিত্র্যময় পরিবেশ উপভোগ করেছেন।
এবারের উৎসবে বাংলাদেশি কমিউনিটির সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্যারিসের ও-বার-ভিয়ে, লা কুরনেভ এবং গার দ্য নর এলাকায় আয়োজিত বাংলা গানের অনুষ্ঠানগুলো প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাশাপাশি বিদেশি সঙ্গীতপ্রেমীদেরও নজর কেড়েছে। বিশেষ করে ও-বার-ভিয়ে এলাকায় ‘এসকে সাউন্ড’-এর উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘জলের গান’-এর রাহুল আনন্দের পরিবেশনা এক বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
ফরাসি সংস্কৃতি বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও জলবায়ুজনিত চ্যালেঞ্জের সময়ে ‘ফেত দ্য লা মিউজিক’ মানুষের মধ্যে সামাজিক সংযোগ এবং সাংস্কৃতিক সম্প্রীতির এক শক্তিশালী মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখছে। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা এই উৎসবটি এখন ফ্রান্সের অন্যতম বৃহৎ এবং জনসম্পৃক্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে।