
যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা এবং দলের ভেতরে প্রবল চাপের মুখে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই তার সরকারের জনসমর্থনে ধস নামতে শুরু করে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অজনপ্রিয় নীতি গ্রহণ এবং পিটার ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে বিতর্কিত নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্টারমার সরকারের পতনের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের পর নিজ দলের ১০০ এমপির পদত্যাগের দাবিতে কোণঠাসা হয়ে অবশেষে তিনি বিদায় নিলেন। এখন লেবার পার্টির নেতৃত্বে এবং ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটের পরবর্তী বাসিন্দা হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম।
প্রেডিকশন মার্কেট বা বেটিং বাজারের তথ্য অনুযায়ী, অ্যান্ডি বার্নহামের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা এখন রেকর্ড ৯৫ শতাংশ। তার এই এগিয়ে থাকার পেছনে বেশ কিছু রাজনৈতিক কারণ রয়েছে:
মেকারফিল্ড জয়ের ম্যাজিক: গত ১৮ জুন মেকারফিল্ড উপ-নির্বাচনে তিনি ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশের আইনি যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এর আগে স্থানীয় নির্বাচনে এই আসনটিতে ডানপন্থী দল ‘রিফর্ম ইউকে’ আধিপত্য বিস্তার করলেও বার্নহামের জয় দলের ভেতরে ও বাইরে তাকে এক শক্তিশালী অবস্থানে বসিয়েছে।
দলের সমর্থন: লেবার পার্টির ‘কিং অব দ্য নর্থ’ খ্যাত বার্নহাম সাধারণ দলের সদস্যদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয়। নিয়ম অনুযায়ী, নতুন নেতা হতে হলে একজন প্রার্থীকে ৪০৩ জন এমপির মধ্যে অন্তত ৮১ জনের সমর্থন পেতে হয়, যেখানে বার্নহামের অবস্থান বেশ শক্ত।
প্রতিদ্বন্দ্বী: যদিও ওয়েস্ট স্ট্রিটিং বা আল কার্নসের নাম শোনা যাচ্ছে, তবে বিশ্লেষকদের মতে তাদের জয়ের সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ (মাত্র ৩ শতাংশ)।
অ্যান্ডি বার্নহাম যদি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তবে তাকে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে। ইউগভের সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, মে থেকে জুনের মধ্যে বার্নহামের প্রতি ব্রিটিশ নাগরিকদের অনীহার হার ৩০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তাকে যে চ্যালেঞ্জগুলো সামলাতে হবে তার মধ্যে রয়েছে:
অর্থনৈতিক স্থবিরতা: দেশের অভ্যন্তরে ভঙ্গুর অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি চাঙ্গা করা।
কূটনৈতিক ভারসাম্য: আন্তর্জাতিক অঙ্গনে, বিশেষ করে একজন খামখেয়ালি আমেরিকান প্রেসিডেন্টের সাথে ব্রিটেনের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত কৌশলে বজায় রাখা।
গোটা যুক্তরাজ্য এখন তাকিয়ে আছে লেবার পার্টির এই নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এবং অ্যান্ডি বার্নহামের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। তিনি কি পারবেন ব্রিটেনের এই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে উঠতে? উত্তর পেতে সময়ের অপেক্ষায় ব্রিটেন।